আগৈলঝাড়ায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অস্তিত্ব থাকলেও ভোটার তালিকায় তাদের অনুপস্থিতি একটি স্পষ্ট বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জনগোষ্ঠী আরও একবার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে থেকে যাবে।
জাতীয় পরিচয়ে হিজড়া হলেও ভোটার তালিকায় তাদের লিঙ্গ লেখা হয়েছে ‘ফিমেল’। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় তৃতীয় লিঙ্গ নাগরিকদের ভোটার তালিকাভুক্তিতে এমন মারাত্মক অসঙ্গতির তথ্য সামনে এসেছে, যা নির্বাচন ব্যবস্থায় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সরেজমিন গিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়ায় একাধিক তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজেদের লিঙ্গ পরিচয় ‘হিজড়া/তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে উল্লেখ করলেও ভোটার তালিকায় তাদের নারী (Female) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তাদের লিঙ্গ পরিচয় বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে।
তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের একজন ভোটার রীনা হিজড়া বলেন, ‘আমার জানামতে হিজড়া সম্প্রদায় আগৈলঝাড়ায় ৩ জন আছে। আমাদের নামে হিজড়া লেখা, কিন্তু ভোটার তালিকায় নারী বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা আমাদের পরিচয়ের সাথে প্রতারণা।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৩ সালে সরকার তৃতীয় লিঙ্গকে স্বীকৃতি দিলেও মাঠপর্যায়ে নির্বাচন অফিস ও ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনায় তার সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি। এর ফলে তৃতীয় লিঙ্গ নাগরিকরা ভোটার হলেও লিঙ্গভিত্তিক তালিকা, পরিসংখ্যান ও পরিকল্পনায় উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছেন।
আগৈলঝাড়া মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই ধরনের ভুল শুধরে নেওয়া না হলে তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক সমতা ও নাগরিক অধিকার কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
আগৈলঝাড়া উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাচন অফিসার নাসরিন জানান, ‘কিছু ক্ষেত্রে তথ্য এন্ট্রির সময় গরমিল হতে পারে। আমি দেখেছি ভোটার তালিকায় তাদের ফিমেল করা হয়েছে তাই তৃতীয় লিঙ্গ তালিকায় শূন্য দেখানো হয়েছে। তারা চাইলে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এনআইডি কার্ড সংশোধন করে নিতে পারবে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ভোটার তালিকা সংশোধন করে তৃতীয় লিঙ্গ নাগরিকদের সঠিক পরিচয়ে অন্তর্ভুক্ত না করলে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন