× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

আব্দুল মোমিন, সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১২:২১ পিএম

সাতক্ষীরার মৎস্যচাষি দেশের অর্থনীতিতে শক্তিশালী অবদান রাখছে

আব্দুল মোমিন, সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১২:২১ পিএম

সাতক্ষীরার চিংড়ি মাছ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সাতক্ষীরার চিংড়ি মাছ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা দেশের মৎস্য চাষের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। জেলার মাছচাষিরা আধুনিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন করে সাতক্ষীরাসহ দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন।

মৎস্য চাষ ও মাছের সুনামের কারণে সাতক্ষীরায় মাছের খাদ্য ও ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার ব্যবসা পরিচালনা করছে, বিশেষ করে বাগদা ও গলদা চিংড়ি—যাদের ‘হোয়াইট গোল্ড’ নামেও ডাকা হয়—দেশের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা ৭০ শতাংশ চিংড়ি সাতক্ষীরার ঘেরে উৎপাদিত হয়।

জেলার কিছু নদীর নাব্য হ্রাস পাওয়ায় লবণাক্ত পানি কমে যাওয়ায় চিংড়ি ঘেরে চাষের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে সাতক্ষীরার মৎস্যচাষিরা বিভিন্ন জাতের সাদা মাছ, কাঁকড়া ও কুচিয়া মাছের চাষ করে দেশের চাহিদা পূরণ করছেন। মাছের এই উৎপাদন শুধু দেশীয় চাহিদা মেটাচ্ছে না, বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

চিংড়ি মাছের পোনা উৎপাদনেও সাতক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সুন্দরবন উপকূলের শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ নওয়াবেকি হ্যাচারি থেকে পোনা উৎপাদিত হয়ে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চিংড়ি চাষের জন্য রেণু পোনার সংকট দূর করতে সহায়ক।

মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, জেলায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৭১ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৬ টন মাছ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে ৬৭,৬৮৩ হেক্টর জমিতে ৪০,৯১১ টন বাগদা, গলদা ও অন্যান্য চিংড়ি উৎপাদন হয়। জেলায় উৎপাদিত মাছের পরিমাণ স্থানীয় চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বিভিন্ন জলাশয়, নদী, খাল ও বাঁওড়ে বাগদা, গলদা, সাদা মাছ, কাঁকড়া ও কুচিয়া মাছ চাষ করা হচ্ছে। জেলার ৩৬৪টি কাঁকড়া ঘের থেকে ১,৯৬৫ টন কাঁকড়া উৎপাদন হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার খাল, নদী, বিল ও বিভিন্ন জলাশয় থেকে হাজার হাজার টন বিভিন্ন মাছ সংগ্রহ ও উৎপাদন করা হচ্ছে।

মৎস্য চাষিরা উৎপাদিত মাছের মান ও পরিমাণ বৃদ্ধি করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করে উৎপাদন প্রক্রিয়া উন্নত করা হচ্ছে।

স্থানীয় মৎস্য চাষিরা জানান, চিংড়ি চাষে খরচ সত্ত্বেও লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে। যেমন—তালার ঘোনা গ্রামের কামরুল গাজী ৫০ বিঘা জমিতে মাছ চাষে সাত লাখ টাকা খরচ করে সাত মাস পরে প্রায় ৮০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেন। তবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন বর্ষার পানিতে ঘের ডুবে যাওয়া কখনো কখনো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সাতক্ষীরার মাছের সুনাম শুধু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশ থেকেও সাতক্ষীরার মাছের স্বাদ নিতে আগ্রহী। স্থানীয় পাইকারি ও খুচরা বাজার থেকে মাছ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা হচ্ছে।

জেলায় মৎস্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে হ্যাচারি, ডিপো, কল ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিটে উৎপাদিত মাছ দেশি-বিদেশি বাজারে সরবরাহ করা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিএম সেলিম ‌বলেন, ‘সাতক্ষীরা দেশের মৎস্য চাষে মডেল জেলা হিসেবে পরিচিত। জেলা থেকে উৎপাদিত চিংড়ির তিন ভাগের দুই ভাগ বিদেশে রপ্তানি হয়। আমরা সর্বদা মৎস্য চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা করে থাকি।’

সাতক্ষীরার মৎস্য চাষিরা কেবল জেলায় নয়, দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ ও উৎপাদনের ফলে জেলার মৎস্য খাত ক্রমে শক্তিশালী হচ্ছে।

Link copied!