ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ঘটেছে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা —একই পরিবারের দুই প্রার্থী লড়াই করেছেন নির্বাচনে। যেখানে ছেলের কাছে জামানাত হারিয়েছেন বাবা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এই আসনে শাপলা প্রতীকে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর বাবা, আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক, একই আসনে আলাদা দল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচনের বেসরকারি ফলে দেখা গেছে, ছেলে আব্দুল হান্নান মাসউদ বিপুল ভোটে জয়ী হলেও বাবা মাত্র ৫০৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোট ভোটের এক-অষ্টাংশের কম ভোট পান, তবে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই শর্তে আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের ভোট সংখ্যা প্রয়োজনীয় সীমার নিচে থাকার কারণে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ফলে দেখা গেছে, এনসিপি মনোনীত শাপলা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ পেয়েছেন ৯১,৮৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৪,০২১ ভোট। এ ছাড়া অন্যান্য প্রার্থীরা নিম্নলিখিত ভোট পেয়ে জামানত হারান—
- হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল আজিম ৪,৭৮৩ ভোট
- ফুটবল প্রতীকের তানভীর উদ্দিন রাজিব ৩,৭৬৪ ভোট
- হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ ২,১৭৯ ভোট
- তারা প্রতীকের মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব ১,২৩৯ ভোট
- লাঙ্গল প্রতীকের এটিএম নাবী উল্যাহ ২৮০ ভোট
- ট্রাক প্রতীকের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন ১৯১ ভোট
- ছাতা প্রতীকের মোহাম্মদ আবুল হোসেন ৮৬ ভোট
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩,৩৯,১৮৪। মোট প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১,৭৪,৩৩২; যার মধ্যে বাতিল ভোট ৫,৩৬৭। ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৫১.৪০ শতাংশ। এর মধ্যে হ্যাঁ ভোট হয়েছে এক লাখ ৯২৫ এবং না ভোট হয়েছে ৫৩,২৪৮।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও হাতিয়া উপজেলার ইউএনও মো. আলাউদ্দিন নিশ্চিত করেছেন, শাপলা ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছাড়া বাকি আটজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচনে হাতিয়ায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া সবদিক থেকে উন্নয়নের পথে এগোবে এবং সবাই মিলে এই জনপদকে আলোকিত করবে।
এভাবে বাব-বেটার মধ্যে নির্বাচনি লড়াইয়ের এক অনন্য দৃশ্য উঠে এলো যেখানে অভিজ্ঞ প্রার্থী বাবা হারলেন, আর নতুন প্রজন্মের ছেলে জয়ী হয়ে স্থানীয় জনসাধারণের আস্থা অর্জন করলেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন