× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

চুয়াডাঙ্গায় রমজানকে সামনে রেখে বাজারে ক্রেতাদের ভিড়

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

চুয়াডাঙ্গার কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের দোকানে হঠাৎ করেই বেড়েছে দ্রব্যমূল্য। অনেক পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অন্যদিকে, রোজার প্রস্তুতিতে বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। সকল সবজির দাম যেন দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশীয় কাগজি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়, শসার দামও ১২০ টাকা হয়েছে। প্রতি বছরই পবিত্র রমজান উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। দ্রব্যমূল্যের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ক্রেতাদের বেশি চাহিদা এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ কম থাকাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শহরের বড় বাজার ও নিচের বাজার ঘুরে দেখা যায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে মানুষের ঢল নেমেছে। বিশেষ করে মুদি ও সবজির দোকানে ছিল অতিরিক্ত ভিড়। ক্রেতারা আগেভাগেই ইফতার ও সেহরির সামগ্রী সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

পবিত্র রমজানের পুরো মাসের বাজার একদিনেই করতে এসেছেন অনেক ক্রেতা, যার ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং যোগান কমায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিচের বাজারের মুদি দোকানগুলো পরিদর্শন করে দেখা যায়, বর্তমানে খেজুর মানভেদে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা ৮৫ টাকা, বেসন ৯৫ টাকা, মুড়ি ৯০ টাকা, সয়াবিন তেল ১৯৬ টাকা, চিনি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতারা মনে করছেন, এগুলো গত বছরের তুলনায় খুব বেশি বাড়েনি।

অন্যদিকে আপেল, কমলা ও আঙ্গুরসহ অন্যান্য ফলের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল আছে বলে অনেক ক্রেতার অভিমত। কলা প্রকারভেদে ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে কোনো সবজির দামই যেন থেমে নেই। কয়েক দিনের ব্যবধানে কিছু সবজির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও শসা ছিল ৫০ টাকা, বর্তমানে তা ১২০ টাকা। বেগুন ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, লেবু ৩০ টাকা থেকে ৬০–১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা, রসুন ১০০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, আলু ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। হঠাৎ পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক ক্রেতা। অনেকে দাম আরও বাড়বে ভেবে একদিনেই এক মাসের বাজার করছেন।

বিক্রেতারা জানান, রমজানকে ঘিরে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়া পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বৃদ্ধিও বাজার অস্থিরতার কারণ।

খুচরা সবজি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শিপন বলেন, ‘রমজানের আগে সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকায় বিক্রি ভালো ছিল। কিন্তু রমজানে দাম বাড়ায় বিক্রি কমে গেছে। আগে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি করা হতো, এখন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শামীম রেজা বলেন, ‘রমজানে বাজারে সবজির চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ, শসা, টমেটো, বেগুন ও লেবুর চাহিদা বেশি হওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।’

মুদি দোকানি মোসলেম হোসেন বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে মুদি দোকানের পণ্যের দাম খুব বেশি বাড়েনি। গত বছরের তুলনায় এ বছর কিছুটা কম।’

ক্রেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘রমজানে সবজির দাম বেশি। প্রতি বছর রমজান আসলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে। আগে যা ৪০-৫০ টাকায় কিনতাম এখন ৮০-১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। রোজার মাসে খরচ বেশি থাকে, তার ওপর দাম বাড়লে অনেকের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে যায়।’

কাঁচামাল আড়ৎ সমিতির উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম ফজু বলেন, ‘রমজানকে সামনে রেখে বাজারে সবজির চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়াই না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দামও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হবে।’

চুয়াডাঙ্গা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। কিছু সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে মুদি দোকানের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল। জনসাধারণের সুবিধার্থে নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনবে, যাতে রমজানে স্বস্তিতে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যায়।’

Link copied!