নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নে রাতের আঁধারে কৃষিজমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি লুটে বাধা দেওয়ায় কৃষকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাদিপুরের কাজহরদী এলাকায় সংঘটিত এই হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদিপুর ইউনিয়নের কাজহরদী বানিয়াপাড়া এলাকাটি ইটভাটার নিকটবর্তী হওয়ায় একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ কৃষকদের জমির মাটি লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। স্থানীয় শাহজাহান, আবু হানিফ, মহসিন ও শানু মিয়ার নেতৃত্বে চক্রটি রাতের আঁধারে জোরপূর্বক ভেকু (এক্সেভেটর) দিয়ে কৃষিজমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার রাতে তারাবির নামাজের পর গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাটি কাটায় বাধা দিতে গেলে শাহজাহান ও আবু হানিফের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র, রামদা, হকিস্টিক ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে কৃষকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এতে আকতার হোসেন, সাদ্দাম মিয়া, মোস্তফা কামাল, আনোয়ার হোসেন, মামুন মিয়া, আমিনুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও কবির হোসেনসহ ২০ জন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চারজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
হামলায় আহত কবির জানান, কাজহরদী এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী শাহজাহানের নেতৃত্বে আবু হানিফ, মহসিন মিয়া ও শানু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে কৃষকের কৃষি জমির মাটি জোরপূর্বক রাতের আধারে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের কাছে এলাকায় সাধারণ কৃষক জিম্মি হয়ে পড়েছে। আবার বাধ্য হয়ে অনেকের জমির মাটি বিক্রি করতে হচ্ছে।
আব্দুল আলী নামের এক কৃষক দাবি করেন, মাটি লুট চক্রের সদস্যদের কাছে সাধারণ কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। রাতে পাহারা দিয়েও মাটি লুট ঠেকানো যাচ্ছে না। প্রতিদিন রাতের আধারে মাটি লুট করে নিয়ে যাওয়ার কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে ওই জমির মাটি তাদের কাছে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
অভিযুক্ত শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি আবু হানিফের অধীনে চাকরি করেন। আবু হানিফ জমির মাটি ক্রয় করে ভেকু দিয়ে কেটে ইটভাটায় বিক্রি করেন। হামলার সঙ্গে তিনি জড়িত না বলে দাবি করেন। রাতে মাটি কাটার সময় আকতারের নেতৃত্বে তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়। তবে আকতার তাদের মাটি কাটার জমিতে চাঁদা দাবি করেছেন। না দেওয়ায় কৃষকদের নিয়ে বাধা দিয়েছে।
তালতলা বাজার তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো. সেলিম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চুরি করে কৃষকের জমির মাটি লুট করার ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।
সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মহিববুল্লাহ বলেন, কৃষি জমির মাটি কাটতে বাধা দেওয়ায় হামলার ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন