পবিত্র রমজান মাসে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। রাজশাহীতে প্রতিদিন মহানগরীর ১৫টি স্থানে দেদার এই পণ্য বিক্রি চলছে। মানুষের চাহিদা পূরণে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছেন। টিসিবির পণ্য কিনতে মানুষের হিড়িক পড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় পণ্য কম থাকায় ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই বিক্রি শেষ হয়ে যাচ্ছে। পণ্য কিনতে এসে অনেকেই ফিরছেন খালি হাতে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নগরীর কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখা গেছে, টিসিবির ট্রাকের পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইন।
স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য পেতে বিভিন্ন পয়েন্টে টিসিবির ট্রাকের সামনে ক্রেতার ভিড় দেখা যায়। প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে আসছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে এখানেও রয়েছে ভোগান্তি।
সকাল ১০টার মধ্যে ট্রাক আসার কথা থাকলেও তা ১২টারও পরে আসে। এ ছাড়া মানুষের চাহিদার তুলনায় ট্রাকে পণ্যের পরিমাণ কম থাকায় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে পণ্য কিনতে পারেন না। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেককে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।
টিসিবি জানিয়েছে, প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫৯০ টাকায় পাঁচ ধরনের পণ্যের প্যাকেজ বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি মসুর ডাল, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি ছোলা ও আধা কেজি খেজুর। প্যাকেজের সব পণ্য একসঙ্গে নিতে হচ্ছে। এবার প্রতি ট্রাক থেকে একসঙ্গে ৪০০ জন সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে পারছেন। গত বছরের শুরুতে ১০টি পয়েন্টে ২০০ জন করে পণ্য বিক্রি করা হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, লাইনে দাঁড়িয়ে একাধিকবার পণ্য কিনছেন কেউ কেউ। এসব পণ্য খোলাবাজারেও পাওয়া যাচ্ছে। আবার ডিলারের ঘনিষ্ঠ হলে আগে পণ্য দিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগও আছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন নিম্নবিত্তরা। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে হুড়োহুড়ি হচ্ছে, কখনও তা হাতাহাতির পর্যায়েও চলে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত পণ্য না পেয়ে অনেকেই হতাশ হচ্ছেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
নগরীর দরগাপাড়া এলাকায় শাহ মখদুম মাজার গেটের সামনে টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছিল। আয়েশা বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘আজ সকাল ৯টার সময় লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখানে প্রায় এক হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ট্রাক ১২টার দিকে এসেছে। এতক্ষণ রোজা রেখে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অথচ লাইনে না দাঁড়িয়েও কেউ কেউ পণ্য পাচ্ছেন। আমি কখন পাব, ঠিক নেই।’
নগরীর সাহেববাজার বড় মসজিদের কাছে পণ্য নিতে আসা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বাজারের চড়া মূল্যের তুলনায় টিসিবির তেল, চিনি, ডাল ও খেজুর কম দামে পাওয়া যায়। তাই এসব পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছি। সংসারে বাড়তি খরচের চাপ আছে। এখানে কম দামে পেলে ভালো হয়। কিন্তু পণ্য দিতেও ডিলারের লোকজন পক্ষপাতিত্ব করছে। আবার একজনকে দুইবারও নিতে দেখলাম।’
এ বিষয়ে টিসিবির রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, ‘পণ্যের মান ভালো এবং দাম কম হওয়ায় একটি চক্র একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য নিয়ে লাভের জন্য খোলাবাজারে বিক্রি করছে। তারাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অন্যদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত পণ্য পান না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতারকদের ঠেকাতে ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় বাড়তি জনবল নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাদের সহযোগিতা পেলে বিশৃঙ্খলা কিছুটা কমবে এবং স্বাভাবিক পরিবেশে পণ্যসামগ্রী বিক্রি করা সম্ভব হবে।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন