গাজীপুর সদর উপজেলায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি মুদি দোকানসহ চারটি টিনশেড ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে দোকানের মালামাল ও বসতঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সদর উপজেলার ভবানীপুর কাতলামারা এলাকায় আবু তাহের (৭৫)-এর বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত আবু তাহের ওই এলাকার মৃত আমিন উল্লাহর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়ির পাশেই একটি ছোট মুদি দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দোকানটি ছিল তার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। আগুনে দোকান ও বসতঘর পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে হঠাৎ করে মুদি দোকানের ভেতর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের উৎপত্তি। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দোকান থেকে পাশের বসতঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত চারদিকে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে।
আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পানি ও বালু দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
ক্ষতিগ্রস্ত আবু তাহের জানান, ‘আগুনে তার মুদি দোকানের সমস্ত মালামাল, নগদ অর্থ এবং বসতঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দোকানটাই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় আমরা এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছি।’
এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন।
গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের মুসল্লী বলেন, ‘আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় রয়েছে। আমরা তাদের পাশে আছি। দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে এবং বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’
এ বিষয়ে রাজেন্দ্রপুর-চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মুহাম্মদ আবু সায়েম মাসুম (পিএফএম) জানান, ‘খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে তারা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অবশিষ্ট আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলে।’
তিনি আরও জানান, ‘আগুনে একটি মুদি দোকান ও তিনটি টিনশেড বসতঘরসহ মোট চারটি ঘর পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।’
স্থানীয়রা জানান, দ্রুত সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পক্ষে আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য তারা সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন