মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
এ ঘটনায় বন্যা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, ৬১ রাউন্ড গুলি, একটি একনলা বন্দুক, ২১ রাউন্ড কার্তুজ, ৯টি গুলির খোসা ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
রোববার (৮ মার্চ) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন: খোরশেদ খান (৬০), মোসাম্মৎ কাজল বেগম (৩৫), জয়তুন বেগম (৬০), ফাহিমা বেগম (৩০), ইভা আক্তার (১৬), নুপুর বেগম (২৪), বন্যা আক্তার (২৭), মোহাম্মদ আয়ান (৫), মোহাম্মদ দোলন (১২), মো. মুস্তাকিম (৭), মোহাম্মদ ইদ্রিস খান (৫৫), মো. আল-আমিন খান (৩) ও মিনু আক্তার (৫৫)।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুদ্রপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মান্নান খা ও তার চাচা হারুন খা’র পক্ষের সঙ্গে মিজানুর রহমানের বিরোধ চলছিল।
ঘটনার দিন বিকেলে কাদিরের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে মান্নান খার লোকজন মিজানুর রহমানকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
রাতে তারাবির নামাজের পর মান্নান খা, হারুন খা ও আমিন খাসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর চালালে নারীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন।
খবর পেয়ে শ্রীনগর থানা পুলিশ ও র্যাব-১০-এর সিপিসি-২-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করে। তারা হলেন, মান্নান খান (৬৫), হারুন খান (৮০) ও মহসিন খান (২৯)। এ সময় হারুন খানের কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক জব্দ করা হয়। এ ছাড়া একটি পিস্তলও জব্দ করা হয়েছে।
শ্রীনগর থানার ওসি মো. জুয়েল মিয়া বলেন, বাঘড়া ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে বাড়িতে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বন্যা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এলাকায় বর্তমানে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন