ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে ঢাকামুখী মানুষের ঢলে রাজবাড়ীর কালুখালী রেলওয়ে স্টেশন যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোর থেকেই স্টেশনজুড়ে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে না পেরে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে যাত্রা করছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, সকাল হতেই পরিবার-পরিজন ও শিশুদের সঙ্গে নিয়ে শত শত যাত্রী স্টেশনে জড়ো হন। খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী নকশীকাঁথা কমিউটার ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে বগির ভেতরে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। আসন তো দূরের কথা, দাঁড়ানোর মতো জায়গাও না থাকায় অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েন।
অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্টেশনে রেলওয়ে পুলিশ, আনসারসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও ছাদে যাত্রী ওঠা কার্যকরভাবে ঠেকাতে ব্যর্থ হতে দেখা যায়। এতে করে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী যাত্রী আল আমিন ও ওমর আলী বলেন, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের মতে, ট্রেনের বগি সংখ্যা বাড়ানো হলে যাত্রীচাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।
এদিকে কয়েকজন যাত্রী জানান, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির সাম্প্রতিক ঘটনার পর অনেকেই সড়কপথে যাতায়াত এড়িয়ে চলছেন। ফলে ট্রেনে যাত্রীর চাপ আরও বেড়েছে।
রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুর রহমান বলেন, 'ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা নিরুৎসাহিত করা হয়। তবে ঈদ শেষে যাত্রীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।'
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে অনেকেই স্টেশনে অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার অনেকে ঝুঁকি নিয়েই ছাদে উঠছেন। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট বিলম্বে সকাল ৭টা ৫ মিনিটে ট্রেনটি রাজবাড়ী স্টেশন ত্যাগ করে।
ঈদের আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফেরার এই যাত্রা অনেকের কাছেই এখন দুর্ভোগ আর অনিশ্চয়তায় ভরা হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন