× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

অকটেন সংকটে রাঙামাটিতে যাত্রীবাহী স্পিডবোট চলাচল বন্ধ

রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

রাঙামাটিতে তীব্র অকটেন সংকটের কারণে গত ৩-৪ দিন ধরে যাত্রীবাহী স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তি ও হতাশায় পড়েছেন এখানকার স্পিডবোট যাত্রীরা। গত ১৫-১৮ দিন ধরে রাঙামাটিতে বিরাজমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে অনেকে ধারণা করছেন। প্রশাসন এ বিষয়ে কাজ করলে তেল সংকট নিরসন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাঙামাটির তেল সংকট নিরসনে প্রশাসন চেষ্টা করলেও তেল বিক্রিতে হিমশিম খাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, তেলের কোনো সংকট নেই; তবে কিছু মজুতকারীর কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে পাম্প থেকে বড় বড় ট্যাংকি, গ্যালন ও বোতল দিয়ে তেল নেওয়ার কারণে পাম্পগুলোকে সংকটে ফেলেছে কিছু তেল মজুতকারী।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘সারা দেশের ন্যায় বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তেলের কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তেল সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে। এ সময় ঈদের ছুটিতে রাঙামাটি জেলায় প্রচুর পর্যটকের চাপ ছিল। পর্যটকবাহী স্পিডবোট, ইঞ্জিনবোট ও লঞ্চ চলাচল করে।’

রাঙামাটি জেলায় কৃত্রিম তেল সংকট থাকলেও চাহিদার চেয়ে বেশি তেল সরবরাহ এসেছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসের সঙ্গে চলতি বছর ২০২৬ সালের মার্চ মাসের তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে একটি পাম্পে ৪০ হাজার লিটার ডিজেল ও ৪০ হাজার লিটার অকটেন এসেছিল; তখন চাহিদা কম ছিল। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ওই একই পাম্পে ৮০ হাজার লিটার ডিজেল ও ৪০ হাজার লিটার অকটেন এসেছে। তারপরও তেলের চাহিদা এত বেশি যে আমরা তা কাভার দিতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, আমাদের তেল সরবরাহ রয়েছে, তাই ভয় ও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ইতোমধ্যে সব পাম্পে তেল নিয়ে নির্দেশনা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা যদি তেল অপচয় না করি, তাহলে সুশৃঙ্খলভাবে সবাইকে তেল দিতে পারব।

স্পিডবোট যাত্রী হেলাল ও রফিক বলেন, ‘রাঙামাটি ফিসারি ঘাটে এসে দেখি স্পিডবোট চলাচল বন্ধ। পরে জানতে পারি অকটেনের অভাবে স্পিডবোট বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আমরা বিপাকে পড়েছি। জরুরি কাজে লংগদু যাব, কিন্তু যেতে পারছি না। তেলের কারণে জনভোগান্তির শিকার হচ্ছি আমরা। স্পিডবোটের আশায় লঞ্চও মিস করেছি। রাঙামাটিবাসীর প্রধান নৌযান হলো এই স্পিডবোট। এভাবে বন্ধ থাকলে চরম বিপদে পড়বে সবাই। তাই প্রশাসনের কাছে দাবি, প্রয়োজন অনুযায়ী স্পিডবোট চালকদের চাহিদা মতো অকটেন সরবরাহ দিয়ে স্পিডবোট চালু করা হোক।’

স্পিডবোট চালক আলতাপ বলেন, ‘স্পিডবোট চলে অকটেনে। অকটেন না পেলে আমরা কীভাবে যাত্রীসেবা দেব? গত ১৫-১৮ দিন ধরে রাঙামাটিতে কৃত্রিমভাবে তীব্র অকটেন সংকট দেখা দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩-৪ দিন ধরে পাম্পগুলো আমাদের পরিমাণমতো তেল দিতে পারছে না, যার কারণে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যেখানে একটি স্পিডবোটে ৬০-৭০ লিটার তেল লাগে সেখানে পাম্প মালিকেরা আমাদের মাত্র ৫ লিটার তেল দিতে চায়। এই তেল দিয়ে কী করব আমরা? বিষয়টি গত ৩ দিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান পাইনি।’

স্পিডবোট লাইনম্যান মহিউদ্দিন বলেন, ‘রাঙামাটি ফিসারি ঘাট থেকে লংগদু, মাইনীমুখ ও বরকল নৌপথে ধারাবাহিকভাবে ৪৫-৫০টি স্পিডবোট চলে। এসব স্পিডবোট পর্যটকসহ জরুরি অফিস-আদালতের সেবা, রোগী পরিবহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে ব্যবহৃত হয়। হঠাৎ স্পিডবোট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। একটি যাত্রীবাহী স্পিডবোটে জেলা সদর থেকে লংগদু, মাইনীমুখ যাতায়াতে ৭০-৮০ লিটার অকটেন লাগে; সেখানে ৫ লিটার তেলে কী হবে! তেল সংকট নিরসনে প্রশাসন আমাদের কোনো সহযোগিতা করছে না, যার কারণে গত ৩-৪ দিন ধরে যাত্রীবাহী স্পিডবোট সেবা বন্ধ রয়েছে।’

Link copied!