নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বরিশাল শহরের রূপাতলীতে গোপন বৈঠক করার প্রাক্কালে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী হাউজিংয়ের ছায়া নিকেতন ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের আটক করা হয়।
অবশ্য মেট্রোপলিটন কোতয়ালি পুলিশের অভিযানের আগেই ভবনটির অভ্যন্তরে ছাত্রলীগ নেতা মইদুর রহমান বাকীসহ অন্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে রূপাতলী হাউজিংয়ের ছায়া নিকেতনে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা যায়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের ভেতরের একটি ফ্ল্যাটে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মইদুর রহমান বাকী এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হাসান রনিসহ কয়েকজনকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে রাখেন। এতে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং উৎসুক জনতা ভবনটির চারপাশে অবস্থান নেয়।
কিছুক্ষণ পর কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা বাকী ও রনিসহ অন্তত ৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বাকী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্রলীগ ছেড়ে আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় তার প্রতি জুলাইযোদ্ধাদের সহানুভূতি রয়েছে। ফলে বাকীসহ অন্যদের ছাড়িয়ে নিতে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়। এ নিয়ে রাতভর থানায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও শেষ পর্যন্ত ছাত্রদল নেতাদের চাপের মুখে তাদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শনিবার আদালত তাদের কারাগারে পাঠান।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ নেতা বাকীসহ কয়েকজন ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান নিয়ে সরকারবিরোধী বৈঠক করছিলেন। এর আগেও এই ভবনে একাধিকবার এমন বৈঠক হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি সেখানে মাদক বাণিজ্যও চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা বাকীসহ কয়েকজন সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত- এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে যান এবং ঘটনার সত্যতা পান। পরে তাদের হাতেনাতে ধরে কোতয়ালি পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।’
তবে ছাত্রলীগ নেতা বাকীসহ গ্রেপ্তার ৫ জন দাবি করেছেন, ছায়া নিকেতনে কোনো সরকারবিরোধী বৈঠক হয়নি। তাদের মধ্যকার শুভ নামের একজনের পারিবারিক কলহ নিয়ে তমাল ও ইমনের বাসায় একটি বৈঠকে তারা অংশ নিয়েছিলেন। কোনো সূত্রে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে ভাঙচুর করে এবং ৫ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় তাদের অপমান করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
মইদুর রহমান বাকী জানান, তমাল নামে যাকে আটক করা হয়েছে, তিনি জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এছাড়া বাকী নিজেও আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ওই আন্দোলনে অংশ নেন। এ কারণে ছাত্রদল ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মামুন উল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘সরকারবিরোধী বৈঠকের খবর পেয়ে শুক্রবার গভীর রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে বাকী, রনি, ইমনসহ ৫ জনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। শনিবার আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন