প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি ডিউস পরিশোধ ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে আইন অমান্যের পাশাপাশি রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টিও উঠে এসেছে।
রোববার (৫ মার্চ) থেকে শুরু হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলার বাড়বকুণ্ড থেকে ভাটিয়ারী উপকূলীয় এলাকায় বিস্তৃত এ অভিযানে একাধিক ড্রেজার ও বালু উত্তোলন কার্যক্রমের ওপর নজরদারি চালানো হয়।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়, যারা সংশ্লিষ্ট অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন কচি এবং সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ছিল। এর প্রেক্ষিতে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বন্দর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, অভিযানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় ফরওয়ার্ড ডিউস, রিভার ডিউস এবং সার্ভে সনদ ছাড়াই বালু উত্তোলন করছিল, যা সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল।
জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- এমবি সিপাত অ্যান্ড আনোয়ার এন্টারপ্রাইজ, এমবি কে আর অ্যান্ড এস কে ড্রেজার, এমবি হামজা হিমু, এমবি জিওন ড্রেজার-২ এবং দয়াল ভরসা ড্রেজার।
এর মধ্যে এমবি সিপাত অ্যান্ড আনোয়ার এন্টারপ্রাইজ, এমবি কে আর অ্যান্ড এস কে ড্রেজার এবং এমবি হামজা হিমুকে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এমবি জিওন ড্রেজার-২-কে ৪০ হাজার টাকা এবং দয়াল ভরসা ড্রেজারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি ডিউস পরিশোধ ছাড়া বালু উত্তোলনের ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং উপকূলীয় পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
তিনি আরও জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, এটি পরিবেশগত ভারসাম্যও নষ্ট করে। উপকূলীয় অঞ্চলে ভাঙন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং নৌপথে ঝুঁকি বাড়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয়দেরও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন