ঐতিহাসিক উলাশী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে আগামী ২৭ এপ্রিল যশোরের শার্শায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে শার্শায় এখন সাজ সাজ রব। খালপাড় এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, রাস্তা সংস্কার এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মাটি ভরাট করে সভামঞ্চ ও প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
সোমবার রাতে যশোর জেলা বিএনপির মিডিয়া সেলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানান, যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী খালের পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন এবং যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শেষে তিনি জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই হবে তার প্রথম যশোর সফর।
যশোর জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত শার্শা উপজেলার উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন।
প্রায় ৫০ বছর আগে, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালের খননকাজ শুরু করেছিলেন। এটি ‘উলাশী-যদুনাথপুর প্রকল্প’ বা ‘জিয়া খাল’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে গেছে।
এদিকে সোমবার থেকে শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম এবং স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে খালপাড়ের রাস্তা সংস্কার ও এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটার কাজ শুরু হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ জানান, গত ২ এপ্রিল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উলাশী খাল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এই পুনঃখনন কার্যক্রমের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ৪ কিলোমিটার খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যা এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
শার্শা উপজেলা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. শহিদ আলী বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে এটি পুনরায় খনন করা হলে এলাকার কৃষি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এর আগে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান এবং পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম খাল এলাকা পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। নেতৃবৃন্দ আশা করছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শার্শার পাঁচটি বিলের পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং হাজার হাজার হ্যাক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন