রাজশাহীর তানোরে ভাড়াটে বাহিনী ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিক ও অভিযুক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় চলতি মাসের ৭ তারিখে জমির মালিক মোহনপুর উপজেলার লালইচ গ্রামের আবুল হাসান বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে কামারগাঁ ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম ও মাসুদকে বিবাদী করা হয়।
জানা গেছে, হরিপুর গ্রামের আরএস ২০৭ দাগে ৬২ শতাংশ এবং ২৫৯ দাগে ১০ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন মোহনপুর উপজেলার লালইচ গ্রামের আব্দুর রশিদ। তার মৃত্যুর পর তার তিন ছেলে আবুল হাসান, গোলাম মোস্তফা, আল মামুন এবং দুই মেয়ে আবেদা ও জায়েদা ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিকানা পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, হরিপুর গ্রামের মৃত সোলেমানের ছেলে নজরুল ইসলাম জাল কাগজপত্র তৈরি করে জমিটি নিজের দাবি করছেন। এ নিয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা প্রকৃত মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ওই জমিতে আলুর চাষ হয়েছিল এবং জমি লিজ দেওয়া ছিল। আলু তোলার পর থেকেই নজরুল ও তার লোকজন জমি দখলের চেষ্টা শুরু করে। শুক্রবার সকালে নজরুল, মাসুদ, জসিম, জালাল, নাজিম, এনামুল ও কাউসারসহ ভাড়াটিয়া লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিতে রোপণ কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা বাধা দিলেও তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা দৌড়ে পালিয়ে যান।
স্থানীয়দের দাবি, বৈধ কাগজপত্র থাকলে তারা পালিয়ে যেতেন না। তারা এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
জমির মালিক আবুল হাসান, গোলাম মোস্তফা ও আল মামুন জানান, তারা প্রায় ১৯৬৫ সাল থেকে প্রায় এক একর ৭২ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাদের বাবা জীবিত থাকাকালে নজরুলের বাবা সোলেমান লিজ নিয়ে জমিতে চাষাবাদ করতেন। পরবর্তীতে নজরুলও দীর্ঘদিন লিজ নিয়ে চাষ করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই একটি সন্দেহজনক কাগজ দেখিয়ে জমির মালিকানা দাবি করছেন।
তারা আরও জানান, এ বিষয়ে পূর্বে থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা করা হয়েছিল। আদালতে নজরুল বন্ড দিয়ে জমিতে না যাওয়ার অঙ্গীকার করলেও বর্তমানে পুনরায় দখলের চেষ্টা করছেন। এমনকি বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা দাবি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, জমি রোপণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। উভয় পক্ষকে শুক্রবার সন্ধ্যায় জমির কাগজপত্রসহ থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। সঠিক কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আপস মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে জমিতে না যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন