× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১১:০৩ এএম

অপারেটরের কাছে জিম্মি কৃষক, সেচের অভাবে ধানের জমি ফেটে চৌচির

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১১:০৩ এএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

রাজশাহীর তানোরে অপারেটরের খামখেয়ালিপনা ও সময়মতো সেচ না দেওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে বোরো ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের চকসাজুড়িয়া মৌজায় এমন ঘটনা ঘটেছে। সেচের পানি না পাওয়ার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বোরো ধান। সবুজ পাতা শুকিয়ে গেছে, জমির মাটি ফেটে গেছে। তারপরও অপারেটর নানা অজুহাতে পানি দিচ্ছেন না।

ফলে সময়মতো সেচ না পাওয়ায় আবাদ হলেও কাঙ্ক্ষিত ফলন আসবে না বলে মনে করছেন কৃষকরা। তাদের মতে, আর দু-একবার সেচ পেলেই ফসল ঘরে উঠত। কিন্তু এ মুহূর্তে অপারেটরের এমন আচরণে হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।

জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে উপজেলাজুড়ে প্রচণ্ড তাপদাহ বিরাজ করছে। দিনে তাপপ্রবাহ থাকলেও রাতে কিছুটা শীতল হাওয়া থাকছে। সেচ দেওয়ার পরও জমিতে পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না।

পানির অভাবে ৬ নম্বর কামারগাঁ ইউনিয়নের চকসাজুড়িয়া মৌজার জেল নং-২৩৯, দাগ নং-৬১ এলাকায় অপারেটর মো. রনি ইসলামের অধীন সেচ ব্যবস্থায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চকসাজুড়িয়া কাজিপাড়া এলাকার কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। একসময় সবুজে ভরা ধানক্ষেত এখন পানির অভাবে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু হেনার ডিপ টিউবওয়েল থেকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না করায় বিঘার পর বিঘা জমির ধান শুকিয়ে যাচ্ছে।

মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত রোদে পুড়ে খাঁ খাঁ করছে। পানির অভাবে জমির মাটি ফেটে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ধানের গাছগুলো পর্যাপ্ত রস না পেয়ে হলদেটে হয়ে নুয়ে পড়েছে। অনেক কৃষকই বলছেন, আর কয়েকদিন এভাবে চললে ফলন তো দূরের কথা, গাছ বাঁচিয়ে রাখাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, সময়মতো সেচ না পাওয়ায় তারা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। কাজিপাড়া এলাকার এক কৃষক বলেন, ‘আমরা রনির ডিপের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সঠিক সময়ে পানি না দেওয়ায় আমাদের কষ্টের ফসল চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বারবার বলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।’

তারা আরও জানান, গভীর নলকূপে সেচ দেওয়ার জন্য বিঘাপ্রতি হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৫০০ টাকা। সবাই টাকা পরিশোধ করলেও সেচ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। সেচ কার্ডে সেচ দেওয়ার বিধান থাকলেও তা অনুসরণ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট অফিসও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

কৃষকদের ভাষ্য, আর দুই-তিনবার সেচ পেলে ফসল ঘরে উঠত। সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় এক বিঘা জমিতে চাষ থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ ধানের দাম কম। এর মধ্যে বৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সেচের অভাবে ফসল নষ্ট হলে তা হবে চরম দুঃখজনক। প্রায় ২৫০ বিঘার এই সেচ স্কিমের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা জমির ধান পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে।

তবে অপারেটর রনি ইসলাম বলেন, ‘সেচের তেমন কোনো সমস্যা নেই। প্রায় ২০০ বিঘার বেশি স্কিমে সেচ দেওয়া হচ্ছে। কারো কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কয়েকজন কৃষক ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন অভিযোগ করছেন। মাত্র ৮-১০ বিঘা জমিতে সামান্য সমস্যা হয়েছিল, সেটিও এখন নেই।’

এ বিষয়ে তানোর বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল হাসান বলেন, ‘গভীর নলকূপের মূল উদ্দেশ্যই হলো জমিতে সেচ দেওয়া। কোনো অপারেটর সেচ না দিলে কৃষকরা সঙ্গে সঙ্গে অফিসকে অবহিত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!