রাঙামাটি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রামের সংযোগস্থলে কর্ণফুলী নদীর ওপর অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই ফেরিঘাটটি আজও হাজারো মানুষের নিত্যদিনের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। উন্নয়নের নানা গল্পের ভিড়ে এই ফেরিঘাট যেন সময়ের পেছনে আটকে থাকা এক রূঢ় বাস্তবতা।
প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজারো মানুষ এখানে ভিড় করেন—কেউ কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য, কেউ চিকিৎসার জন্য, আবার কেউবা শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নিতে। কিন্তু এই যাত্রা কখনোই সহজ নয়।
আজ বুধবার (৬ মে) সকালেও ফেরিঘাট এলাকায় চিরচেনা ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। যানবাহন ও যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। নদী পার হওয়ার জন্য অনেককে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
মাঝেমধ্যে ফেরির স্বল্পতা, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এতে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে অসংখ্য কর্মঘণ্টা, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে মানুষের জীবিকা ও উৎপাদনশীলতায়।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় জরুরি রোগীদের। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার পথে ফেরিঘাটে আটকে পড়ার ঘটনা এখানে নিত্যনৈমিত্তিক।

স্থানীয়রা জানান, মুমূর্ষু রোগীর অবস্থা গুরুতর হলেও ফেরির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। একইভাবে চাকরিজীবীরা সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে হিমশিম খান এবং শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা মিস করার আতঙ্কে থাকেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও আজও একটি ফেরির ওপর নির্ভরশীল। এখানে একটি সেতু হলে আমাদের জীবন অনেক সহজ হয়ে যেত।
জানা যায়, কর্ণফুলী নদীর এই অংশে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস মিললেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এই স্থানে একটি দৃষ্টিনন্দন ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেওয়ায় তিন জেলার মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আধুনিক সেতু নির্মিত হলে রাঙামাটি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে করে পর্যটন শিল্পে ব্যাপক প্রসার ঘটবে, পাহাড়ি কৃষিপণ্য সহজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছাবে এবং নতুন নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
সেতু নিয়ে একজন পরিবহন চালক আক্ষেপ করে বলেন, ঘাটে বসে থাকায় জ্বালানি খরচ বাড়ে, ট্রিপ কম হয়, ফলে আয়ও কমে যায়। সেতু হলে আমাদের যাতায়াত ও আয় দুটোই স্থিতিশীল হতো।
এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন