সাতক্ষীরা উপকূলবর্তী সুন্দরবনের জলদস্যু আলিম ও নানা ভাই বাহিনী মুক্তিপণের দাবিতে গত দু’দিনে কাঁকড়া ও মাছ শিকারে জড়িত ২২ জেলেকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত রোববার সকাল থেকে সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল থেকে এসব জেলেকে অস্ত্রের মুখে তারা অপহরণ করে। অপহৃত জেলেরা শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
অপহৃত জেলেদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণ পাঠানোর শর্তে ছেড়ে দিলেও অপর ১৭ জনকে তারা জিম্মি করে রেখেছে। এ ঘটনায় শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন তীরবর্তী হরিনগর, কদমতলা, মরাগাং, চুনকুড়ি, মথুরাপুর এলাকার জেলেদের মধ্যে চরম আতংক ভর করেছে।
অপহৃতদের পরিবারের সদস্যসহ মহাজন এবং ফিরে আসা জেলেরা জানান, গত চার থেকে পাঁচদিন আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে তারা সুন্দরবনে যায়। একপর্যায়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কদমতলা স্টেশনের আওতাধীন এলাকার বিভিন্ন খালে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের সময় আলিম ওরফে আলিফ বাহিনী এবং নানাভাই বাহিনীর সদস্যরা তাদের ২২ জনকে অপহরণ করেছে।
তারা হলেন: সিংহড়তলী গ্রামের আবুল ফকিরের ছেলে মোমনি ফকির (৩০), হরিনগর গ্রামের মুর্শিদ আলম (৪০), হরিনগর গ্রামের মিজানুর শেখের ছেলে ইসমাইল শেখ (২৮) ও মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল করিম (৪৮), সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামের ছাত্তার সানার ছেলে আব্দুস সামাদ (৪০), কুলতলি গ্রামের মনোহর সরকার (৩৪), চুনকুড়ি গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে আল মামুন (১৬), রুহুল আমিনের ছেলে হুমায়ুন (২৬), খালেক মোল্যার ছেলে মনিরুল (২৫), আব্দুল হাইয়ের ছেলে রবিউল (৩০), গনেশ মন্ডলের ছেলে সঞ্জয় (৫২), বড় ভেটখালী গ্রামের আলমগীরের ছেলে আলআমিন (৩৭), ফরেজ গাজীর ছেলে শাহাজান (৫০), জুলফিকারের ছেলে আবুল বাসার বাবু (৩৫), কদমতলার ছাকাত গাজীর ছেলে রেজাউল (৩৫), দক্ষিন কদমতলার সাদেক সর্দারের ছেলে আব্দুস সালাম (৫৫), ধুমঘাট গ্রামের কওছার গাজীর ছেলে আবুল কালাম (৪০)।
কুলতলি গ্রামের মৃত নিরাপদ সরকারের ছেলে ধ্রুবো সরকার (৩৮), দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের সুবোল মন্ডলের ছেলে হৃদয় মন্ডল (৫৩), হরিনগর গ্রামের বাবুর আলী গাইনের ছেলে সবুর গাইন (৫০), সিংহড়তলীর গোলদার পাড়ের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) ও আনছার গাজীর ছেলে ইউনুস আলীকে (২৬) অপহরণ করে মারপিট করতে থাকে।
এর একপর্যায়ে অপহৃত সদস্যদের ভেতরে কুলতলি গ্রামের মৃত নিরাপদ সরকারের ছেলে ধ্রুবো সরকার (৩৮), দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের সুবোল মন্ডলের ছেলে হৃদয় মন্ডল (৫৩), হরিনগর গ্রামের বাবুর আলী গাইনের ছেলে সবুর গাইন (৫০), সিংহড়তলীর গোলদার পাড়ের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) ও আনছার গাজীর ছেলে ইউনুস আলী (২৬)। এই ৫ জনকে ছেড়ে দেয় জলদস্যুরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিম্মি জেলেদের কয়েকজনের স্বজন জানান, এখনো পর্যন্ত জলদস্যুরা মুক্তিপণের কোনো অঙ্ক জানায়নি। হয়তো বা মোবাইলের নেটওয়ার্কের মধ্যে ফিরে তারা মুক্তিপণ দাবি করতে পারে। আমাদের লোকজন ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা খুব আতঙ্কের ভিতর আছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, অপহৃত জেলেদের দ্রুত জলদস্যুদের হাত থেকে জেলেদের ফিরিয়ে আনার জন্য।
এদিকে ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছে, একেবারে লোকালয়ের পাশ থেকে জলদস্যুরা জেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে এবং ব্যাপক মারধর করছে। জেলেরা বর্তমানে আতঙ্কের ভিতর আছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, জেলেদের অপহরণের বিষয়ে ইতোমধ্যে তারা কোস্টগার্ডকে জানিয়েছে। দ্রুতই বড় আকারে অভিযান চালানো হবে।
শ্যামনগর থানার ওসি মো. খালেদুর রহমান জানান, অপহরণের শিকার কোনো জেলের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি তাদেরকে অবগত করেনি, যার কারণে আমাদের জানা নাই। তবে আপনাদের মাধ্যমে শোনার পর বিষয়টি আমরা দেখছি। কোনো দস্যুদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন