লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সরকারবিরোধী বিশৃঙ্খলা ও মারধর করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসান রাব্বি বাদী হয়ে থানায় এ মামলা করেন।
এ মামলায় লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খানকে প্রধান করে ১৭৯ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর নামে অভিযোগ আনা হয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রামগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস শাকুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় সন্দেহজনক একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তার নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
থানা সূত্র জানায়, সোমবার (২২ জুন) রাতে ছাত্রদল নেতা রবিউল হাসান রাব্বি বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫০ জনের বিরুদ্ধে রামগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বাদী রাব্বী উপজেলার দেবনগর গ্রামের নুরুল ইসলাম কালার ছেলে।
মামলার প্রথম অভিযুক্ত আনোয়ার খান লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।
অপর আসামিরা হলেন- রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শামছুল হক মিজান, রামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মোরশেদুল আমিন বাবু, উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব সহিদ চৌকিয়া, যুবলীগ নেতা বাচ্চু, বেল্লাল আহমেদ, কামরুল ইসলাম, সৈকত মাহমুদ শামছু, ইরান, মিলন পাটওয়ারী, রিয়াদ হোসেন, ফিজু, তুহিন মালিক, যুবলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন রাজু, জাকির হোসেন, শাকিল হোসেন, সাহাবুদ্দিন, জসিম জদ্দিন, মামুন হোসেন, বিল্লাল হোসেন, জসিম, মো. রাসেল, মো. রবিন, শামীম, আলী হোসেন রকি, মহিন আলী, বিল্লাল হোসেন, আব্দুল হান্নান বাবু ও অজ্ঞাত ১৫০ জন। আসামিরা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।
মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ১৬ জুন রাতে ভিডিও গ্রুপ কলে আসামিরা ভোলাকোট ইউনিয়নের ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির সামনে জড়ো হয়। ভিডিও কলে সংযুক্ত থেকেই ‘জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, একটা একটা লোক ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’ স্লোগান দিয়ে সরকারবিরোধী বিশৃঙ্খলা করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পৌঁছলে তারা বাদী রাব্বিসহ সাক্ষীদের ওপর হামলা চালায়।
এ ব্যাপারে বাদী রবিউল হাসান রাব্বীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।
তবে রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু বলেন, রাব্বি ছাত্রদলের ইউনিয়ন কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক। এক মাস আগে ওই কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময় সে গ্রেপ্তার হয়েছিল।
রামগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস শাকুর বলেন, এজাহার নামীয় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে এ মামলায় সন্দেহজনকভাবে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, যদিও ১৬ জুন বিকেলে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আব্দুর রহমান হল (ছাত্রাবাস) থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের (১৪) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে উত্তেজিত এলাকাবাসী প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক, অভ্যর্থনা কক্ষসহ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করে। পরে হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা জিয়া উদ্দিন জিয়া বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০ জনের নামে মামলা করেন। এ মামলায় হল সুপার ও প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম এবং শিক্ষার্থী সাজিদুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইফোন চুরির অভিযোগে ছাত্রাবাসে মেহেদীকে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা মারধর করলে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন