× UCB Sticker Card
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০১:১১ পিএম

চার মাসেই এমপি মাসুদ সাঈদীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০১:১১ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

নির্বাচিত হওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

নির্বাচনি ইশতেহারে মাসুদ সাঈদী পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলে এখানে শিল্প কল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন করে রাজধানীসহ সারা দেশের সাথে পিরোজপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত ও সহজ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই তিনি মাঠে-ময়দানে, সভা-সমাবেশে এই দাবি নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে এই দাবি নিয়ে কথা বলেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসের সাথেও সাক্ষাৎ করে এমপি মাসুদ সাঈদী পিরোজপুরের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে তিনি পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা ও ঢাকা থেকে রেললাইন পিরোজপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবি দুটি উত্থাপন করে আবার আলোচনায় আনেন।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে এ দাবি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন। জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণার বিষয়ে ইতিবাচক মতামত ব্যক্ত করেন। অবশেষে পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণার বিষয়টি গত ১৪ জুন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় উপস্থাপিত হয় এবং তা অনুমোদন করা হয়। এদিকে গত ১৬ জুন সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকার সঙ্গে পিরোজপুরে রেল যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) প্রতিষ্ঠিত হলে তা উপকূলীয় এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে যুগান্তকারী গতি আনবে। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মৎস্য, কৃষি ও সামুদ্রিক সম্পদ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। স্থানীয় যুবসমাজ, বিশেষ করে নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পিরোজপুরের নদী ও সড়ক পথের শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে পণ্য পরিবহন অত্যন্ত সহজ হবে। উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করার মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

একই সাথে ঢাকার সঙ্গে পিরোজপুরের রেললাইন চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। এর মাধ্যমে ঢাকা ও অন্যান্য অঞ্চলের সাথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হবে, যা স্থানীয় জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। পিরোজপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং অন্যান্য কাঁচামাল দ্রুত ও সহজে দেশের অন্যান্য বিভাগে পাঠানো যাবে। এতে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন। রেল যোগাযোগের ফলে পিরোজপুরে নতুন শিল্প-কারখানা, হিমাগার এবং পর্যটন খাতের বিকাশ ঘটবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

এমপি মাসুদ সাঈদীর প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুগান্তকারী এ ঘোষণার পর পিরোজপুরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। জেলার সর্বস্তরের মানুষ এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল ইসলাম শামীম বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া একটি জেলা পিরোজপুর। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেনি। ফলে অর্থনৈতিকভাবেও জেলা দীর্ঘদিন পিছিয়ে রয়েছে। পিরোজপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি অর্থনৈতিক জোন ও রেল যোগাযোগ স্থাপন। যা পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অন্যতম বিষয় ছিল। তিনি সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। একনেক সভায় এ দুটি প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ায় জেলার উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। 

পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ পিরোজপুরের মতো দীর্ঘদিনের অবহেলিত জেলাকে বদলে দিতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে দেশের সামগ্রিক চিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব। এ মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। 

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, বিগত ১৭ বছর দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম অবহেলিত জেলা ছিল পিরোজপুর। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জন্মস্থান হওয়ায় নানা ক্ষেত্রে এ জেলাকে বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে আমার নির্বাচনি এলাকা পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও জিয়ানগরকে উন্নয়নের সব স্তর থেকেই বঞ্চিত করা হয়েছে। পিরোজপুরে বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। শুধু স্থানীয় সরকারের এলজিইডি বিভাগ থেকে কোনো কাজ না করেই ৬ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং জেলার অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগ চালু হলে পণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসার খরচ কমবে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে পিরোজপুরের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।

পিরোজপুরবাসী আশা করছেন, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় পিরোজপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!