নরসিংদীতে জীবন্ত কুকুরের গলায় দড়ি দিয়ে ইট বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা ও রাতে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এআরএম আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নরসিংদী পৌর এলাকার কামারগাঁওয়ের আব্দুল আজিজের স্ত্রী শাহিনারা বেগম (৪০) এবং নাগরিয়াকান্দী এলাকার হারুনুর রশিদের ছেলে রমজান আলী (২২)।
পুলিশ জানায়, জীবন্ত কুকুরের গলায় দড়ি দিয়ে ইট বেঁধে নাগরিয়াকান্দী সেতু থেকে নদীতে নিক্ষেপের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি রমজান আলীকে শহরের নাগরিয়াকান্দী এলাকা থেকে এবং অপর আসামি শাহিনারা বেগমকে ইউএমসি জুট মিলের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীবা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন হলে একটি বিষয় কমিয়ে কাউন্সেলিং ও মনোবিজ্ঞানের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। মানুষের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে রাষ্ট্রকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের অমানবিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ বলেন, যে আচরণটি করা হয়েছে, তা কোনো মানবিক মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এটি বিকৃত মানসিকতার পরিচয়। কুকুরটি বিরক্ত করলেও তাকে জনমানবহীন কোনো স্থানে ছেড়ে দেওয়া যেত। কিন্তু যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নৃশংস।
তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত কসাই মোহাম্মদ আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
পরিবেশ আন্দোলন নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি মঈনুল ইসলাম মিরু বলেন, কুকুর পৃথিবীর অন্যতম প্রভুভক্ত প্রাণী এবং মানুষের উপকারী। সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি প্রাণীই কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের মধ্যে যে বিকৃত আচরণ দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তুলতে শুধু রাষ্ট্র বা প্রশাসন নয়, সমাজের প্রত্যেকের দায়িত্ব রয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মহিদুল ইসলাম বলেন, নাগরিয়াকান্দী সেতুর ওপর থেকে কুকুরটিকে নির্মমভাবে নদীতে ফেলে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলীকে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নিয়মিত মামলা দায়ের করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেন। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যে প্রাণীই হোক না কেন, তার প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণ সম্পূর্ণ অমানবিক। বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ আমরা সবাই ব্যথিত।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন নরসিংদীর নাগরিয়াকান্দী সেতু থেকে জীবন্ত একটি কুকুরের গলায় দড়ি দিয়ে ইট বেঁধে মেঘনার শাখা নদীতে ফেলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, খালি গায়ে থাকা এক ব্যক্তি কুকুরটির গলায় দড়ি বেঁধে অপর প্রান্তে একটি ইট লাগিয়ে সেটিকে সেতুর ওপর থেকে নদীতে নিক্ষেপ করছেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জেলা পুলিশের নজরে এলে অভিযান চালিয়ে ২৫ জুন কামারগাঁও এলাকার আব্দুর রবের ছেলে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন