চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকার একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের পানির ট্যাংকে সন্ত্রাসীরা বিষ মিশিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৫ জুলাই) রাতে বিষয়টি তদারকি করতে আসেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নাজিমুল হক।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সন্ত্রাসীরা এ কাজটা করেছে মধ্যরাতে। কারণ তারা জানে ভোরে ঘুম থেকে উঠে অনেকে এ পানি ব্যবহার করে এবং কয়েকজন বিষমিশ্রিত পানি ব্যবহার করে অসুস্থ হয়েছে। তিন-চারজন সারা দিন পেটের পীড়ায় অসুস্থ হয়েছে। এটা হত্যাচেষ্টা।
ডিআইজি বলেন, বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক জাতীয় ওষুধ তারা পানিতে দিয়েছে। সন্ত্রাসীরা বুঝে গেছে অস্ত্র দিয়ে আমাদের ঠেকানোর ক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে। তাই তারা গুপ্তভাবে আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের পর থেকে আমরা নানামুখী বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। এর আগে সন্ত্রাসীরা আমাদের ইলেকট্রিসি লাইন, পানির লাইন ও রাস্তা কেটে দিয়েছে। আমাদের সদস্যরা যেন এখানে থাকতে না পারে, এ জন্য এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, মব সৃষ্টি করেছে।
অস্থায়ী এই ক্যাম্পে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা ছাড়াও এই ট্যাংকের পানি এখানকার স্কুলের শিক্ষার্থীরাও পান করে এবং ব্যবহার করে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
জানা গেছে, ক্যাম্পটিতে যৌথ বাহিনীর দু্ই শতাধিক সদস্য অবস্থান করছেন। এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা নিয়োজিত আছেন। সবাই দৈননিন্দ কাজে এই ট্যাংকের পানি ব্যবহার করেন।
এ বিষয়ে ডিআইজি নাজিমুল হক বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পর সদস্যদের সতর্ক করেছি তারা যেন পানি আর ব্যবহার না করে। একই সঙ্গে স্কুলের শিক্ষকদের বলে দিয়েছি এবং স্কুলের যে কয়েকটা বাথরুম ও পানির লাইন ছিল, সব বন্ধ করে দিয়েছি। এ ঘটনা জানার পর আমরা দ্রুত ট্যাংকি পরিষ্কার করেছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা স্কুলের ভেতরে দুই ক্যাম্পের মধ্যে স্থায়ী পাম্প বসানোর জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকোশলকে অনুরোধ করব। আমরা পানি জমা রেখে ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছি।
এর আগে জঙ্গল সলিমপুরের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের পানির ট্যাংকের পানি পান করে পুলিশের তিন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। রোববার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ট্যাংকের পানির নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। বাকি পানি ফেলে দিয়ে ট্যাংকটি পরিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, সকালে দায়িত্বে থাকা সদস্যরা পানের জন্য গ্লাসে পানি নেওয়ার পর তাতে সাদা ফেনা দেখতে পান। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পানি পানের পর তারা তীব্র অস্বাভাবিক গন্ধ পান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অসুস্থ বোধ করেন। অসুস্থ তিন সদস্যকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তারা শংকামুক্ত।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, রোববার সকালে ক্যাম্পের তিন সদস্য গ্লাসে পানি ঢালার সময় তাতে সাদা ফেনা দেখতে পান। বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে তারা কিছু পানি পান করেন। এ সময় একধরনের বিষাক্ত গন্ধ অনুভব করেন তারা। কিছুক্ষণ পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পের পানীয় জলের সরবরাহ পাশের একটি বাড়ি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানির পাইপলাইনে কোনো বিষাক্ত পদার্থ প্রবেশ করেছে। তবে সেটি কীভাবে বা কার মাধ্যমে ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরো ট্যাংকের পানি ফেলে দিয়ে সেটি পরিষ্কার করা হয়েছে। অসুস্থ পুলিশ সদস্যদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের যৌথ অভিযানে জঙ্গল সলিমপুর থেকে সন্ত্রাসীদের হটিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়েও এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি তারা; বরং অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন