বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় মো. সুজন (৩৮) নামে একজনের দুই চোখ উপড়ে ফেলে এবং দুই হাত কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের লেমুয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। পরে সুজনকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুজন একই গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মো. সুজন একই এলাকায় মন্টু মিয়ার ছোট ছেলে মো. কালু মিয়াকে (১৮) পথে পেয়ে মুখ চেপে ধরে মারপিট করেন। পরে ভাইকে মারধর করার কারণে বড় ভাই রিয়াজ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসী সুজন রিয়াজকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে এবং একটি হাত কেঠে ফেলে। এ সময় চিৎকার শুনে এলাকাবাসী সুজনের হাত থেকে রিয়াজকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী চিহ্নিত সন্ত্রাসীর সুজনের বাড়ি হামলা করে। শুক্রবার মো. সুজনকে এলাকাবাসী বেধড়ক মারধর করে এবং চোখ তুলে নেয়। পরে মৃত্যূ নিশ্চিত করে এলাকাবাসী।
রায়হানপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার মো. সগির হোসেন বলেন, সুজন এলাকার চিহ্নিত একজন সন্ত্রাসী এবং মাদক কারবারি।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়।
পাথরঘাটা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এস.আই) নুর আলম গাজী বলেন, এলাকাবাসী সুজনকে মারধর করে দুই চোখ তুলে ফেলে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুরতহাল করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


