ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নারীর অধিকার ও সাফল্যের গল্প বলতে তানজানিয়া যাবেন বরগুনার দুই নারী

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬, ১১:১৫ এএম
রুবি আফরোজ ও সুজয়া রানী। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নারীর ক্ষমতায়ন, উপকূলীয় অঞ্চলে নারীর অধিকার ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে আফ্রিকার তানজানিয়া যাবেন বাংলাদেশের দুই নারী।

কোডি ইনস্টিটিউটের (কানাডা) আমন্ত্রণে তানজানিয়ার দার এস সালাম শহরে আগামী ২৩ থেকে ২৭ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবির এনগেজ প্রকল্পের সমাপনী সভা এবং গ্লোবাল গেদারিং অন উইমেন লিডারশিপ অ্যান্ড অ্যাক্টিভ সিটিজেনশিপ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পেয়েছেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার দুই নারী।

তারা হলেন- উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের বাসিন্দা রুবি আফরোজ এবং চরদুয়ানী ইউনিয়নের সুজয়া রানী।

জানা যায়, দেশে নারীর ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা তৈরি এবং বিকল্প জীবিকায়নের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে আসছে সিসিডিবির এনগেজ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫০ জন নারী উপকারভোগী রয়েছেন।

তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এই সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ ভারত, ইথিওপিয়া, হাইতি এবং তানজানিয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সম্মেলনে প্রকল্পের অর্জন উপস্থাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারী নারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরবেন। এতে পাথরঘাটার রুবি আফরোজ ও সুজয়া রানীও তাদের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরবেন।

রুবি আফরোজ ও সুজয়া রানী উপকূলীয় গ্রামীণ এলাকার সাধারণ নারী। এক সময় তারা গৃহিণী হিসেবেই জীবনযাপন করতেন। এনগেজ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, নিয়মিত সহায়তা এবং স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ পাওয়ার পর তারা গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন আয়বর্ধক কার্যক্রমে যুক্ত হন। এতে তাদের পারিবারিক আয় ও স্বনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বর্তমানে তারা স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন এবং অন্য নারীদেরও এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছেন। এলাকায় অনেক নারীর কাছে তারা এখন অনুপ্রেরণার নাম।

রুবি আফরোজ বলেন, ‘এক সময় আমরা ঘরের বাইরে খুব একটা বের হতাম না, মানুষের সঙ্গে কথাও বলতে পারতাম না। স্বামীর আয়ের ওপর নির্ভর করে সংসার চালাতে হতো। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি আয়বর্ধক কাজ শুরু করি। এখন সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে।’

তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিনি গরু পালন করেন, দুধ বিক্রি করেন এবং গোবর দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করে বিক্রি করেন। পাশাপাশি পারিবারিক কৃষি কাজেও যুক্ত আছেন।

সুজয়া রানী বলেন, ‘এখন আমরা স্থানীয় পর্যায়ে নারী অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারি। কোথাও নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটলে তার প্রতিবাদ করি এবং নারীদের বিভিন্ন সরকারি ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করি।’

এনগেজ প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার অভিজিৎ মজুমদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নারীর ক্ষমতায়ন ও আয়বর্ধক কার্যক্রমে নারীদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে রুবি আফরোজ ও সুজয়া রানী অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।

উপজেলা সমন্বয়কারী সুজন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, এনগেজ প্রকল্পের মাধ্যমে পাথরঘাটার প্রায় ২৫০ জন নারীকে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের অবদান, নেতৃত্বের গুণাবলি ও এডভোকেসি কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ওই ২৫০ জনের মধ্য থেকে এই দুই নারীকে নির্বাচন করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে উপকূলীয় নারীদের অগ্রগতি তুলে ধরে তারা দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন।