বগুড়া জেলার সর্ববৃহৎ কাঁচা শাকসবজির বাজার মহাস্থান হাট এখন শীতকালীন সবজিতে ভরপুর। হাটজুড়ে সবুজ শাকসবজির ছড়াছড়ি। সকাল থেকেই বগুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা ভালো দামের আশায় তাদের উৎপাদিত সবজি নানা যানবাহনে করে হাটে আনছেন।
ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় ভরা মৌসুমেই লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত আমদানি, পাইকার ক্রেতার সংকট এবং সংরক্ষণের সুবিধা না থাকায় কৃষকেরা বাধ্য হয়ে টাটকা শাকসবজি কম দামে বিক্রি করছেন। এতে উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় ও শ্রমিকের মজুরি তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
মহাস্থান হাট ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ (৪০ কেজি) ৯০ থেকে ১২০ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা মণ দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৭ থেকে ১৫ টাকায়। শিম কেজিপ্রতি ১৬ টাকা, করলা ৩০ টাকা কমে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজি, পাতা পেঁয়াজ ১০ টাকা কমে ৩০ টাকা কেজিতে, মিষ্টি লাউ ৭ টাকা কমে ১৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হাটে নতুন আলুর আমদানি বাড়ায় আলুর দামেও দরপতন শুরু হয়েছে। জাতভেদে নতুন আলু ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা। পাকা টমেটো ৭০ টাকা, কাঁচা টমেটো ২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ধনে পাতা ২০ টাকা কমে ১০ টাকা আঁটি এবং পেঁয়াজের ফুলকা ৫০ টাকা কমে ১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা যায়।
তবে রঙিলা জাতের বেগুনের দামে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় মণপ্রতি ২০০ টাকা বেড়ে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বগুড়া সদরের লাহিড়ীপাড়ার কৃষক সিরাজুল ইসলাম, চণ্ডীহারার লুৎফর রহমান ও তেলিহারার মিজানুর রহমান জানান, দুই সপ্তাহ আগে ফুলকপি প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।
গত সপ্তাহে তা নেমে আসে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। আর শুক্র ও শনিবার সেই ফুলকপি বিক্রি করতে হয়েছে মাত্র ৮০ থেকে ৯০ টাকা মন দরে।
তারা বলেন, ‘এই দামে বিক্রি করলে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, পরিবহন ও মজুরির টাকাও ওঠে না।’
মহাস্থান হাটের আড়তদার বিশাল ভান্ডারের মালিক তাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘হাটে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৪০টি আড়ত রয়েছে। প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মোকামে অন্তত ৪০ ট্রাক শাকসবজি যাচ্ছে। কিন্তু বাজারে আমদানি বেশি আর বাইরের বেপারি কম আসায় প্রতিদিনই সবজির দাম কমছে।’
এদিকে, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ১৭টি হিমাগারে এখনো বিপুল পরিমাণ আলু মজুত রয়েছে। দাম না থাকায় কৃষকরা আলু উত্তোলনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
বগিলাগাড়ী নিউ কাফেলা কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক মিলটন বলেন, ‘আলু উত্তোলনের জন্য মাইকিং করা হলেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।’


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন