দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষার পর ২৭তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্তরা অবশেষে ন্যায়বিচার পেলেন। এদের মধ্যে অন্যতম মো. সোহরাব হোসেন, যার জীবনসংগ্রাম রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক জটিলতা এবং আইনি লড়াইয়ের এক প্রেরণামূলক গল্প।
মো. সোহরাব হোসেন জন্মগ্রহণ করেন বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার জুড়ী মাঝপাড়া গ্রামে। মরহুম এনামুল হক ও অপিনা বেগমের পঞ্চম সন্তান তিনি। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট সোহরাব হোসেন ছিলেন মেধাবী ও অধ্যবসায়ী।
শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে তিনি এসএসসি করেছেন ক্ষেতলাল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে, এইচএসসি বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সোহরাব হোসেন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এটি ছিল তার জীবনের বড় অর্জন এবং পরিবার ও এলাকায় গর্বের মুহূর্ত।
তবে ২০০৮ সালের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে নতুন সরকার ২৭তম বিসিএসের সুপারিশ বাতিল করে। এতে শত শত মেধাবী প্রার্থী অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হন। রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা ও বিতর্কিত প্রক্রিয়ার সংশোধনের যুক্তি দেওয়া হলেও প্রার্থীদের জীবন ও সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সুপারিশ বাতিলের প্রতিবাদে সোহরাব হোসেনসহ প্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৫ সালে হাইকোর্ট তাদের যোগদানের পক্ষে রায় দেন। তবে তৎকালীন সরকারের আপিলে হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়ে নতুনভাবে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ২৭তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্তরা পুনরায় রিভিউ আবেদন করেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিলেট ডিভিশন তাদের পক্ষে ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে। ১৭ ডিসেম্বর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে মো. সোহরাব হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে নিয়োগ দেয়।
মো. সোহরাব হোসেনের জীবন কেবল একজন বিসিএস ক্যাডারের গল্প নয়; এটি প্রজন্মের অপেক্ষা, হতাশা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রতীক। তার কাহিনি প্রমাণ করে, ন্যায়বিচার বিলম্বিত হতে পারে, তবে চিরতরে অস্বীকারযোগ্য নয়। আজ সোহরাব হোসেন হাজারো বঞ্চিত স্বপ্নের প্রতিনিধিত্বকারী এক অনন্য প্রতীক।


