ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বগুড়ায় বিএনপি নেতার বাড়িতে বর্বর হামলা

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলায় বিএনপি নেতাদের বসতবাড়িতে নৃশংস হামলা চালিয়েছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ এলেও নিষ্ক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা মজিদের দুই চোখ উপড়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। আরও একজনের হাত-পা ভেঙে কেটে ফেলার চেষ্টাসহ ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ করেছে বিএনপি।

ঘটনার পর থেকেই উত্তপ্ত বগুড়া-৪ আসন। তবে হামলার ঘটনা অস্বীকার করে বিএনপির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে জামায়াত। তাদের দাবি, শিবির নেতার ওপর হামলা ও দুই কর্মীকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন এলাকায় বিএনপি নেতার বসতবাড়িতে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় আশপাশের বাড়িতেও হামলা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা মজিদ ও তার ভাই রবিউল ইসলাম। আরেকটি এলাকায় পৃথক ঘটনায় গালিব নামের আহত শিবিরকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জামায়াত।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন। তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাস্থল পুলিশ থাকলেও নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ছিল। কীভাবে পুলিশের সামনে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটল? এভাবে চলতে থাকলে ভোটের দিন তারা কীভাবে দুর্বৃত্তায়ন রোধ করবে? সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আহত বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ছেলে সিয়াম আকন্দ জানায়, ঘটনার আগে ভোটারদের বাড়িতে টাকা বিতরণের সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বেলালসহ জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা আটক করা হয়। দুইজনকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বাড়িতে ডেকে নিয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ছিনিয়ে নিতে বগুড়া-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের নির্দেশে বিএনপি নেতার বাড়িতে নৃশংস হামলা চালায়। কয়েক শ জামায়াত কর্মী লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র হাতে অতর্কিতভাবে বসতবাড়ি তছনছ-লুটপাট করে। বিএনপি নেতা মাসুদের ডান চোখ উপড়ে কোটরের বাইরে চলে এসেছে। ডাক্তার বলেছেন চোখের আলো ফেরানো অনিশ্চিত। তার ছোট ভাই রবিউল ইসলামের ডান হাত ও ডান পা ভেঙে ফেলেছে, তার মাথায় ১৭টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাদের পক্ষ থেকে কোনো হামলা হয়নি। বিএনপির লোকজন তাদের কর্মী গালিবকে মারধর করে আহত করেছে এবং আরও দুই কর্মীকে মিথ্যা অভিযোগে আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়েছে।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া মুখপাত্র মো. আতোয়ার রহমান জানান, এই ঘটনায় সকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি। মামলা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।