ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মতবিনিময় সভায় কঠোর বার্তা মীর শাহে আলমের

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। বিএনপির ভেতরে থাকা ‘ধান্দাবাজ ও তদবিরবাজ’ কিছু নেতা যদি প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার সব সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় ও পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, জেলার প্রতিটি দপ্তরের সমস্যার বিস্তারিত তালিকা আগামী সাত দিনের মধ্যে তার কাছে উপস্থাপন করতে হবে। তিনি জানান, সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিনিধি হিসেবে সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, বগুড়ার জনগণ ভোট দিয়ে জেলার সাতটি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করেছেন এবং সরকার গঠনে সহায়তা করেছেন। তাই বগুড়ায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করার ওপর জোর দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের প্রতারণা বরদাশত করা হবে না। এ ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তারাই সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবার নির্ধারণ করবেন; মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন এবং বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনিক কাজে প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সতর্কবার্তা—বগুড়ার এই সভাকে অনেকে নতুন বার্তা হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের ঘোষণা প্রশাসনের জন্যও একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিল।

বগুড়ায় উন্নয়ন, শুদ্ধ প্রশাসন ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে এই মতবিনিময় সভা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।