পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাকি আর একদিন। এরই মধ্যে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ২৭ রমজানের পর থেকেই বিপণিবিতানগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। এবার বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশই দখল করে আছে বিদেশি ডিজাইনের নান্দনিক সব পোশাক।
বিশেষ করে ভারতীয় শাড়ি ও পাকিস্তানের থ্রি-পিসের পাশাপাশি চীন, থাইল্যান্ড ও দুবাইয়ের তৈরি জুতা ও টি-শার্টের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এবার নারী ক্রেতাদের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে থ্রি-পিস ও বিশেষ ডিজাইনের জামা। মানভেদে এসব পোশাক ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ১ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে মিলছে বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস ও পাকিস্তানি জর্জেট। আর ঐতিহ্যবাহী শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে।
পারভিন নামে এক ক্রেতা জানান, মেয়ের আবদার মেটাতে ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে পাকিস্তানি জর্জেট জামা কিনেছেন তিনি।
উপজেলার সুপরিচিত বসাক বস্ত্রালয়, ভাই ভাই বস্ত্রালয়, নিউ পাবনা বস্ত্রালয়, রকি ফ্যাশন, তিতাস ফ্যাশনসহ বিভিন্ন শোরুম ও দোকানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড়ে পা রাখার জায়গাটুকুও থাকছে না। এ ছাড়া সাহা গার্মেন্টস, কলেজ ফ্যাশন ও ভাইবোন গার্মেন্টসেও ক্রেতাদের সমাগম চোখে পড়ার মতো। ছেলেদের জন্য সুতি পায়জামা-পাঞ্জাবি ১২০০ থেকে দুই হাজার ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং রাজকীয় শেরওয়ানি ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বসাক বস্ত্রালয়ের মালিক রনজিত বসাক বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতাদের সাড়া অনেক ভালো। ২৭ রমজানের পর থেকেই কেনাবেচা পুরোদমে জমে উঠেছে।
তৈরি পোশাকের পাশাপাশি থান ও সিট কাপড়ের বাজারেও ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। ইয়াহিয়া সুতা ঘরের মালিক ইলিয়াস হোসেন জানান, জামার সঙ্গে ম্যাচিং করে লেইস, চুমকি, বোতাম ও সুতা বিক্রির পরিমাণ এখন তুঙ্গে। দুপচাঁচিয়ায় সিট কাপড়ের বিশেষ সুনাম থাকায় স্থানীয় ক্রেতাদের অন্য শহরে যেতে হচ্ছে না।
নিউমার্কেটের স্বত্বাধিকারী শামসুদ্দীন শেখ জানান, ক্রেতাদের রুচি ও আধুনিক ফ্যাশনের কথা মাথায় রেখে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর খুশির ঈদ রাঙাতে সব বয়সী মানুষ এখন কেনাকাটায় ব্যস্ত। বাজারের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
-20260320124808.webp)

