ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে বীজতলা

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় নষ্ট বীজতলার মাঠ। ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অব্যাহত ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীত থাকায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় কৃষকরা।

এদিকে কৃষি বিভাগ থেকে বীজতলা রক্ষায় তারা সার্বিকভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে। তারা বলছেন, এমন অবস্থা বেশি দিন থাকবে না। আশা করছেন আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে এ অবস্থা কেটে যাবে। বর্তমানে মাঠে বীজতলার যে অবস্থা তা এখনো কৃষকদের অনুকূলে রয়েছে বলে জানায়।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ বছর পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ৫ হজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

নির্ধারিত জমি আবাদের জন্য ২৭৫ হেক্টর বীজতলা করা হয়। এর মধ্যে উফসী জাতের রয়েছে ২৩৩ হেক্টর ও হাইব্রিড জাতের রয়েছে ৪২ হেক্টর। যেসব কৃষক আগাম বীজতলা করেছেন তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় তাদের বীজতলা কোনো ক্ষতি হয়নি। তা ছাড়া স্বাভাবিক বীজতলাগুলো তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে তীব্র শীতের কারণে উপজেলায় অন্যান্য ফসল গম, সরিষা, ভুট্টা ও সবজির চাষ খুব ভালো হয়েছে।

কৃষি অফিস জানায়, দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় এ উপজেলায়ও কয়েকদিন থেকে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা পড়ছে। এই ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে এখনো বীজতলা নষ্ট হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। তবে এরকম আবহাওয়া আর কিছু দিন থাকলে বীজতলা নষ্ট হতে পারে। এজন্য কৃষি অফিসের লোকজন মাঠে গিয়ে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কৃষকরাও পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করছেন। 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বীজতলা নষ্ট হওয়ার মূল কারণ তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশা। এজন্য রাতের বেলায় বীজতলায় পানি রাখতে হবে এবং দিনের বেলায় পানিটা সরিয়ে ফেলতে হবে। অনেকে বীজতলা রক্ষায় কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে রাতে পানি রাখছে বীজতলায় এবং সকাল হলে তা সরিয়ে ফেলছে। অনেকে সকালে দড়ি বা লম্বা বাশের কাঞ্চি দিয়ে বীজতলা থেকে শিশির কণা ঝাঁড়িয়ে দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বীজতলার ওপর পলিথিন ও কেউ বা আবার ধানের কুড়া ও চুলার ছাই দিয়ে ক্ষতি থেকে বাঁচাতে চেষ্টা করছেন।  

সরেজমিনে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, গত কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলার অধিকাংশ চারা লালচে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। বীজতলা রক্ষায় কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষক মো. মহসিন বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে যে বীজতলার পাতা সবুজ ছিল গত কয়েক দিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা লালচে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা আরও কয়েক দিন থাকলে ধানের চারা বীজতলা থেকে তুলে জমিতে রোপণ করতে পারব কি না সেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন কৃষি অফিসের পরামর্শে বীজতলা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি। দুয়েক দিনের মধ্যে এ অবস্থা যদি কেটে যায় তাহলে জমিতে চারা রোপণ করতে পারব।

কৃষক মো. মনির মিয়া জানান, ‘এ মৌসুমে ৭ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করার জন্য গত ১৫ দিন পূর্বে বীজতলা করা হয়। কিন্তু তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় বীজতলার চারা তেমন গজাচ্ছে না। যতটুকু গজাচ্ছে তা ও আবার হলদে হয়ে যাচ্ছে। এখন কী করব তা ভেবে পাচ্ছি না।’

শামসু মিয়া বলেন, ‘গত মৌসুমে আমন চাষ করে ফলন ভালো পেয়েছি। তাই এবার উৎসাহ নিয়ে ৮ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করতে বীজতলা তৈরি করেছি। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে বীজতলার অধিকাংশ চারা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এখন বোরো চাষ নিয়ে এক প্রকার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।’  

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত পড়েছে। তবে এই শীতে এখন বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। বীজতলা রক্ষার জন্য ইউরিয়া ও জিপসাম সার প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতিদিন বীজতলার কুয়াশা ঝেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে। তবে শীতের তীব্রতা কমে আসলে ও রোদের প্রখরতা বাড়তে থাকলে বীজতলা অনেকটাই সতেজ হতে শুরু করবে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।