ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় খিরা চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন ভুট্টু নামে এক কৃষক। বাড়িসংলগ্ন দুই বিঘা পতিত জমিতে কোনো প্রকার রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈব সার প্রয়োগে খিরা চাষ করে তিনি এ সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। জমিতে খিরার ফলন ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকার বেশি খিরা বিক্রি করেছেন।
ভুট্টু আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল ও বাজারদর ভালো থাকলে এ জমি থেকে এক লাখ টাকার বেশি খিরা বিক্রি হবে। ভুট্টু উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে, প্রতিদিন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে দৃষ্টিনন্দন এই আবাদকৃত খিরার জমি দেখতে উৎসুক জনতা আসছে। অনেকে আবার খিরা কিনেও নিচ্ছেন। খিরা চাষে কম শ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে এ চাষে ঝুঁকছেন। ফলে দিন দিন এ চাষে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে খিরা চাষ করা হয়। এখানকার উৎপাদিত খিরা খেতে সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদাও অনেক বেশি।
সরেজমিনে আদমপুর গিয়ে দেখা যায়, বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে খিরার বাগান। চারদিকে যেন সবুজের চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে। সারি সারি করে লাগানো প্রতিটি গাছে ধরে আছে খিরা। যেদিকে চোখ যায়, শুধু খিরাই চোখে পড়ে। মাটিতে বড় হচ্ছে শত শত খিরা। চলছে নিয়মিত খিরা বাগানের পরিচর্যা।
খিরা চাষি ভুট্টু জানান, এক সময় তিনি ধান চাষ করতেন। ফলন ভালো না হওয়ায় এখন বছরজুড়ে নানা প্রজাতির সবজি চাষ করছেন। এ মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের খিরা আবাদ করা হয়েছে। এই জমি আবাদ করতে জমি ইজারা, বীজসহ সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও নিজের পরিশ্রমে খিরার ফলন অনেক ভালো হয়েছে।
তিনি জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে পাইকারিতে খিরা বিক্রি শুরু করেছেন। প্রতি মণ খিরা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে। তবে দিন দিন খিরার দর বাড়ছে। তিনি আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল ও বাজারদর ভালো থাকলে এক লাখ টাকার বেশি বিক্রি হবে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছর ধরে সবজি চাষ করছেন। এর মধ্যে গত তিন বছর ধরে খিরা চাষ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে খিরার ভালো চাহিদা রয়েছে। এখানকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা এসে জমি থেকেই খিরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক সময় ভালো দাম পেতে বাজারে নিয়েও বিক্রি করা হয়। এই জমিতে ধান চাষ করা হলে ৪০ হাজার টাকার বেশি ধান পাওয়া যেত না।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে সবজি আবাদ হচ্ছে। সবজি আবাদে কৃষকদের সার, বীজসহ অন্যান্য উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধিতে সহায়তা করা হচ্ছে। ভুট্টু অত্যন্ত সফল ও একজন আদর্শ কৃষক। তিনি প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও খিরা চাষ করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন এ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বেকার ও শিক্ষিতরা সবজি চাষে এগিয়ে এলে একদিকে বেকারত্ব দূর হবে, অন্যদিকে উপজেলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হবে। সবজি চাষে আগ্রহীদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।



