আজ ১৪ ডিসেম্বর নবীনগর মুক্ত দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক সেনাদের কবল থেকে নবীনগরকে মুক্ত করার জন্য স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা সর্বশেষ সশস্ত্র সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন।
৮ ডিসেম্বর কড়ইবাড়ি থেকে অগ্রসর হয়ে সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধারা ইব্রাহিমপুরের সুদন মিয়ার বাড়িতে অবস্থান নেন। ঐ রাতেই তারা নবীনগর আক্রমণের যাবতীয় নীল নকশা তৈরি করেন।
৯ ডিসেম্বর ভোরে উত্তর ও দক্ষিণ দিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা যুগপৎ মরণপণ আক্রমণ চালান। তখন পাকিস্তানি সৈন্যরা রাজাকারসহ নবীনগর হাইস্কুলের ছাদে এবং নবীনগর থানার ব্যাঙ্কারে অবস্থান করছিল। এছাড়া কিছু রাজাকার জমিদার বাড়ির দোতলায় অবস্থান করছিল।
১১ ডিসেম্বরের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা নবীনগর হাইস্কুল ছাড়া সমগ্র সদর নবীনগর দখল করে নেন। থানার সৈন্য ও রাজাকাররা হাইস্কুলের ব্যাঙ্কারে আশ্রয় নেন।
১২ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানি সৈন্যদের মধ্যে সারেন্ডারের বিষয়ে মতনৈক্য সৃষ্টি হয়। ১৩ ডিসেম্বর দুপুরে মিত্রবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার নবীনগর সদরের উপর চক্কর দেয় এবং ওয়্যারলেসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে দুরপাল্লার ভারী আর্টিলারী শেলিং নির্দেশ পাঠানো হয়।
শেষ পর্যন্ত ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে নবীনগর সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়।


