ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আলু বপনে ব্যস্ততা, লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার হেক্টর

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫, ০৫:৩৯ এএম
ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

চাঁদপুরের দুটি সেচ প্রকল্পসহ আট উপজেলায় আলু বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যেই জমি প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। এ বছর ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

কৃষকদের আশা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। তবে গত বছর আলুর ভালো দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক ওইসব জমিতে ধান আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে জেলা সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় দেখা গেছে, অধিকাংশ মাঠে আলু বপনের কাজে কৃষকরা ব্যস্ত। সকাল থেকেই মাঠে নামছেন তারা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ শ্রমিকদের নিয়ে আলু বপন করছেন। এভাবেই দিন কাটছে কৃষকদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলায় ৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছিল। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২০০ হেক্টর। তবে আবাদের পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু বপন সম্পন্ন হয়েছে।

জেলায় সবচেয়ে বেশি আলু আবাদ হয় মতলব দক্ষিণ উপজেলায়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কচুয়া এবং তৃতীয় অবস্থানে সদর উপজেলা। এই তিন উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়।

সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দনপর্দি গ্রামের মাঠে পুরোদমে চলছে আলু বপন। এখানকার কৃষক ইসমাইল হোসেন ও সুরুজ মিয়া বলেন, “গত বছর আলুর ভালো দাম পাইনি। তবে এই সময় আমাদের জমিতে আলু ছাড়া অন্য ফসল কম হয়। তাই বাধ্য হয়ে আলু চাষ করছি।” ফলন ভালো হওয়ার আশাবাদও জানান তারা।

সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর, আশিকাটি, রামপুর, মৈশাদি, বালিয়া ও বাগাদী ইউনিয়নের উঁচু জমিতে শুরু হয়েছে আলু বপন। বাগাদী সোবহানপুর গ্রামের কৃষক শামছুল ইসলাম বলেন, “এ বছর আগাম আলু বপন শুরু করেছি। বৃষ্টি বা কুয়াশার কারণে আলুর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। আগে উৎপাদন হলে ক্ষতির ঝুঁকি কমে।”

এদিকে মতলব উত্তর উপজেলার উঁচু জমি, নদীতীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলে আগাম জাতের আলুর বীজ বপন শুরু হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে আলু বপনের কার্যক্রম।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের উচ্চ ফলন নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ, বীজ সংগ্রহে পরামর্শ, সুষম সার প্রয়োগ, কীটনাশক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

মেঘনার পশ্চিমে বোরচর এলাকার কৃষক আমান উল্লাহ জানান, এ বছর তিনি ১২ একর ২৫ শতাংশ জমিতে আলু আবাদ করেছেন। এ এলাকার মাটি আলু চাষের উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা আলু আবাদে ঝুঁকছেন। গত বছর অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ক্ষতি হলেও এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভের আশা করছেন তারা।

চরাঞ্চলের কৃষক আলী আজ্জাম, আলমগীর ব্যাপারী ও ওয়াসিম জানান, আগাম জাতের আলু চাষে শ্রম বেশি হলেও বাজারে আগে বিক্রি করা গেলে লাভ বেশি হয়। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠে কাজ করছেন তারা।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, “অর্থকরী ফসল হিসেবে আলু চাষ এ এলাকায় অত্যন্ত লাভজনক। অধিকাংশ কৃষক এখন আলু চাষে স্বাবলম্বী। সেচ প্রকল্প এলাকায় উৎপাদন বৃদ্ধি ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পাশে আছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর বাম্পার উৎপাদনের আশা করছি।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, “এ বছর আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার হেক্টর কমানো হয়েছে। এর কারণ হলো গত বছর কৃষকরা আলুর ভালো দাম পাননি। সাধারণত যে ফসলের দাম ভালো থাকে, কৃষকরা সেই ফসলেই বেশি আগ্রহ দেখান। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছরও ভালো ফলনের আশা করছি।”