চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ২০২৫-২৬ রবি মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় হাইব্রিড বোরো ধানের বীজ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা গেছে, বিনা মূল্যে প্রদানের কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিজন ৫০-১০০ টাকা আদায় করছেন। এ ছাড়া প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে অকৃষক ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, এনজিও কর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই বীজ পাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে ফটিকছড়ির দুটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার ৫০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনা মূল্যে হাইব্রিড বোরো ধানের বীজ বিতরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রতি কৃষককে দুই কেজি বীজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
সম্প্রতি নারায়ণহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রণোদনার বীজ বিতরণকালে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করেন। সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বীজ নেওয়া কৃষকদের অধিকাংশ প্রকৃত কৃষক নন।
নারায়ণহাট ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলতাফ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। একজন কৃষক নুরুল হুদা বলেন, সরকার বিনা মূল্যে বীজ দিচ্ছে শুনে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু কর্মকর্তা ৫০ টাকা না দিলে বীজ দিচ্ছিলেন না। আমরা গরিব, এই টাকা কোথা থেকে আনব? অনেকে টাকা দিয়ে বীজ নিয়েছে; প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কৃষক বলেন, অনেক দিন ধরে ধান চাষ করি। এবার প্রণোদনার বীজ পাওয়ার আশায় এসেছিলাম। কিন্তু অচেনা অনেকে বীজ নিয়ে যাচ্ছেন, যারা কখনো জমিতে হাল চাষ করেন না। সরকারি প্রণোদনায় টাকা নেওয়া কেন?
টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, শুধু আমি নই, সবাই টাকা নিচ্ছে। সরকারি প্রণোদনা বিতরণে অনেক আগে থেকেই এমনটা চলে আসছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন। প্রতিবার খরচের নামে কৃষকদের কাছ থেকে ৫০-১০০ টাকা নেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, সরকারি বরাদ্দের বীজ সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে। কৃষকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ সত্য হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যেক কৃষককে ফেরত দিতে হবে।


