ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শীতে বেড়েছে গাছিদের ব্যস্ততা

মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ০১:৩৩ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

শীতের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আর শীত এলেই প্রাণ ফিরে পায় মিরসরাইয়ের গ্রামাঞ্চলের খেজুরগাছগুলো। উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন গাছিদের বাড়তি ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেজুর গাছ পরিষ্কার, পাতার ঘষামাজা ও গাছ ছাঁটাইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

স্থানীয় গাছিরা জানান, শীতের শুরুতেই খেজুর গাছ পরিষ্কার করার কাজ শেষ করতে হয়। এরপর গাছের মাথায় নল বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে খেজুরের রস সংগ্রহ। তখন ভোরের আলো ফোটার আগেই গাছিরা গাছে উঠে ঝরঝরে মিষ্টি রস নামিয়ে আনবেন।

স্থানীয় সমাজকর্মী শহিদুল ইসলাম রয়েল বলেন, মিরসরাইয়ে শীতের রসের কদর বরাবরই বেশি। ভোরের টাটকা রস যেমন বাজারে বিক্রি হয়, তেমনি এই রস দিয়ে তৈরি করা হয় খেজুরের সুস্বাদু গুড়।

গ্রামের মাটির তৈরি হাঁড়িতে খেজুরের রস সংগ্রহ আর কুয়াশা ভেজা ভোরে রস আনতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এক অন্যরকম অনুভূতি। তবে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠার ফলে উপকূলীয় বন যেমন ধ্বংস হয়েছে, ঠিক তেমনি খেজুরগাছও কমে যাচ্ছে।

এদিকে মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট, শান্তিরহাট, জোরারগঞ্জ, মিঠাছড়া, সুফিয়া বাজার, আবুতোরাব, সাহেরখালী, ওয়াহেদপুর ও বড়তাকিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় শীতজুড়ে খেজুরের রস ও গুড়ের চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে।

ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে রসের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ বৃদ্ধি পায় এবং বাজারও জমে ওঠে।

উপজেলার উপকূলীয় এলাকার গাছি নুর করিম জানান, প্রতি বছর শীত এলেই আমাদের কাজের চাপ বেড়ে যায়। এখন গাছ পরিষ্কার করছি। আর দুই-চার দিনের মধ্যেই রস সংগ্রহ শুরু হবে।

এরপর ভোরবেলা রস নামানো, আবার ভোরেই বাজারে বিক্রি এভাবেই চলে পুরো মৌসুম। কেউ কেউ গাছতলা থেকেই রস কিনে নিয়ে যান।

শীত যত এগোবে, মিরসরাইয়ের চরাঞ্চল থেকে পাহাড়ি গ্রাম সবখানেই ছড়িয়ে পড়বে খেজুর রসের মিষ্টি সুবাস। আর গাছিদের ব্যস্ততা থাকবে পুরো মৌসুমজুড়ে। শীত মৌসুমে উপজেলার বহু পরিবারের মৌসুমি আয়ের উৎস এই খেজুর গাছ।