সেনা হেফাজতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় সেনাসদস্যরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন। রাতেই ঘটনাস্থলে উপন্থিত হন জেলা বিএনপির সভাপতি মাহামুদ হাসান খান বাবু।
এ সময় উত্তেজিত নেতাকর্মীরা হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা হাসপাতাল ফটক বন্ধ করে সেখানে সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান নেন। বিক্ষোভ থেকে সেনাসদস্যদের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়। দীর্ঘ সময় জীবননগর-যশোর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাতভর নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। সকাল থেকে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়। হাসপাতাল চত্বরে কড়া অবস্থানে থাকা সেনাসদস্যরা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়া কাউকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেয়নি।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে, সোমবার রাতে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ডাবলুর ফার্মেসিতে অভিযান চালায় সেনাবাহিনীর একটি দল। এ সময় ডাবলুকে সেনাসদস্যরা পাশের একটি কক্ষে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা অভিযোগ করেন, জিজ্ঞাসাবাদে ডাবলুকে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক শামসুজ্জামান ডাবলুকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধদের হামলায় আহত হন জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মাহামুদ হাসান খান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
সকালে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের সামনে জড় হয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি আরও জোরদার করে। বিক্ষোভ থেকে সেনাসদস্যদের ওপর বিএনপি নেতা ডাবলুকে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে শাস্তির দাবি তোলা হয়।
এর আগে, রাত ২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত থাকতে নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আইনের পথে থাকব, অন্য কেউ আইন হাতে তুলে নিলেও আমরা নেব না। কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না।’
এদিকে, আজ মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে এবং ঘটনার তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘কোনো ঘটনা ঘটলে তার আইনানুগ প্রক্রিয়া আছে। আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দেন। আপনাদের যে দাবি সম্পূর্ণভাবে পালন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘শামসুজ্জামান ডাবলুর পরিবার কী অবস্থায় আছে জানি না। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি তার বিধবা স্ত্রী ও সন্তানদের কল্যাণে যা যা করণীয় আমরা করব।’
দুপুর ২টায় ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ ও সেনা পাহারায় নিহত বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন