কক্সবাজার পুলিশ সুপারের নাম ও ছবি ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে একই ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতারক চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে কক্সবাজার পুলিশ সুপারের ছবি ব্যবহার করে নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেয়। পরে তারা কক্সবাজার সদর মডেল থানাধীন কলাতলী রোডের একটি হোটেলে অবস্থানরত আব্দুল্লাহ আল আমিনকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
ভুক্তভোগীকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি হিসাবে টাকা পাঠাতে বলা হলে ভয়ের কারণে তিনি দুই লাখ টাকা জমা দেন। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
ঘটনাটি জানার পর পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল।
এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মিল্টন দে (বিপিএম) বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় ডিবির এসআই রঞ্জন বিশ্বাসকে।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও দালিলিক প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরে ডিবির একটি দল ঢাকা ও কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে গত ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে সাগর আহম্মেদ (২৮) ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে মো. হুমায়ন কবিরকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে ১১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকা থেকে মো. দ্বীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল।
গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


