ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

টেকনাফ সীমান্তে গোলাগুলি, জেলে গুলিবিদ্ধ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
টেকনাফ সীমান্ত। ফাইল ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইক্যংয়ের উত্তরপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরার সময় গুলিতে মো. আলমগীর (৩১) নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হন। গুলিটি মিয়ানমার দিক থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গুলিবিদ্ধ আলমগীর টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন বালুখালী গ্রামের সৈয়দ আহমদের ছেলে। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ‘হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনার পর সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। ওই সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল (বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়) এক জেলে নাফ নদীতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমরা সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।’

গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সহযোগীকে নিয়ে নৌকাযোগে নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান আলমগীর। তারা নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা ‘বিলাসীর দ্বীপ’ নামের জলসীমায় পৌঁছালে হঠাৎ মিয়ানমারের দিক থেকে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় একটি গুলি এসে আলমগীরের বাঁ হাতে লাগে।

আলমগীরের ভাই মো. ইউনুছ বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। শুক্রবার সকালেও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নাফ নদীতে জেগে ওঠা দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশটির রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়েছে আরএসও।

ওপার সীমান্তের তোতার দিয়া, হাসিমের দিয়া, বিলাসী দ্বীপ ও হসের দিয়া এলাকায় দখল ও পুনরুদ্ধার ঘিরে এসব ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘ এক বছর শান্ত থাকার পর নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্তের অন্তত আট হাজার মানুষ। ঝুঁকিতে পড়েছেন নাফ নদীতে মাছ ধরা হাজারো জেলে।

হোয়াইক্যং সীমান্তে বিজিবির বিওপির কাছাকাছি উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শহিদ বলেন, ‘আজও সকাল থেকে বেশ কয়েকটি গোলার বড় ধরনের বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গতকাল গুলিতে এক জেলে আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে এখানকার লোকজন খুব ভয়ের মধ্যে আছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই খোকন কান্তি রুদ্র বলেন, ‘আজ সকালেও মিয়ানমার সীমান্তে গোলার শব্দ শোনার কথা স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ছাড়া গতকাল হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া শিকারে গিয়ে বাংলাদেশি এক জেলে গুলিবিদ্ধ হন। তবে কার গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা প্রায়ই ওপার থেকে গোলার শব্দ শোনার কথা জানান।’

এ বিষয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, ‘সকাল থেকে আমার এলাকায় সীমান্তের ওপার থেকে গোলার বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া একজন জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে সীমান্ত এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সীমান্তে আমাদের বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’