ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মুরাদনগরে কৃষিজমির টপসয়েল কেটে নিচ্ছে মাটি সিন্ডিকেট

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৪:২০ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ডজনখানেক মাটি ব্যবসায়ী চক্রের দৌরাত্ম্যে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শত শত একর তিন ফসলি কৃষিজমি। উর্বর জমির টপসয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহের জন্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার প্রায় ৪০টি সচল ইটভাটায় মাটির জোগান দিতে প্রতিনিয়ত ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে গোমতি নদীর চরের মাটিও তুলে নিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পীরকাশিমপুর, সোনাকান্দা, দিঘীরপাড়, যাত্রাপুর, টনকী, গুঞ্জর, নবীপুর, শোলাপুকুরিয়া, রামচন্দ্রপুর, ছালিয়াকান্দি, কাজিয়াতল ও বাখরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত ভেকু (খননযন্ত্র) দিয়ে কৃষিজমির মাটি কাটা হচ্ছে। পরে সারি সারি ড্রাম ট্রাকে করে এসব মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে ইকবাল হোসেন, গিয়াস উদ্দিন, সালাউদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, হাবীব মিয়া, জান্টু খান, সাত্তার ভূইয়া, বাসির মিয়া, সজিব মিয়া ও কবির হোসেনসহ আরও কয়েকজন জড়িত।

স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালালেও পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না অবৈধ মাটি কাটা। এতে কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের বহু তিন ফসলি জমি ধীরে ধীরে অনাবাদি হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, মুরাদনগরের কৃষিজমি অত্যন্ত উর্বর। প্রতিবছর এসব জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের তিনবার আবাদ হয়। কিন্তু অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় অনেক জমি স্থায়ীভাবে জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে। অনেক কৃষক অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালীদের চাপে স্বল্পমূল্যে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় অবৈধ মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এসব কৃষিজমি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষিবিদ পাভেল খান পাপ্পু বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানা গেছে, খণ্ড খণ্ডভাবে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে শুধু নির্দিষ্ট জমিই নয়, পাশের জমির উর্বর টপসয়েলও সামান্য বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে আশপাশের জমির উৎপাদনশীলতাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি রক্ষা করা যেমন প্রশাসনের দায়িত্ব, তেমনি এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়। তাই অবাধে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান বলেন, কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।