ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই পা হারানো মনিরের সিএনজি চুরি, পরিবারে অনিশ্চয়তা

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পা হারানোর পর মানুষের সহায়তায় পাওয়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাই ছিল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মনির হোসেনের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। সেই অটোরিকশাটিই চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি ও তার পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার পৌর এলাকার সোনাকাটিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় মামলা করেছেন মনির হোসেন।

মনির হোসেন উপজেলার পৌরসভার সোনাকাটিয়া গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে। তার পরিবারে স্ত্রী, তিন সন্তান এবং মা-বাবাসহ সাতজন সদস্য রয়েছেন।

মনির জানান, ২০১৪ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। দীর্ঘদিন কুমিল্লা ও ঢাকায় চিকিৎসা করাতে নেওয়ার পর তার দুটি পা কেটে ফেলতে হয়। দুর্ঘটনার পর জীবিকা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন শুভানুধ্যায়ীরা তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিনে দেন। নিজের শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ সংযোজন করে সেটি চালিয়ে কয়েক বছর ধরে পরিবারের ভরণপোষণ করে আসছিলেন।

তিনি বলেন, বুধবার রাতে প্রতিদিনের মতো বাড়ির সামনে অটোরিকশাটি রেখে ঘুমাতে যান। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন সেটি নেই। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে থানায় মামলা করেন।

মনিরের অভিযোগ, ২০২১ সাল থেকে প্রতিবেশী আবদুল মতিনের সঙ্গে তাদের জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, চুরি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগে তিনটি মামলা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। তার দাবি, বিরোধকে কেন্দ্র করে অতীতেও তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল মতিনের স্ত্রী জাহানারা আক্তার পান্না ও তার ছোট ভাই মনির আহমেদ বলেন, জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ ও আদালতে মামলা চলমান থাকলেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চুরির ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কে বা কারা এটি নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মো. আরিফ হোসেন বলেন, অটোরিকশা চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। চুরি হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।