ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফুলবাড়ীতে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি, জনজীবন বিপর্যস্ত

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ১০:১৩ এএম
তীব্র কুয়াশা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে হিমেল হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় শীতল বাতাস। এদিন দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতের প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষদের কষ্টের শেষ নেই। দিনমজুর, রিকশাচালক ও শ্রমজীবীরা এ কনকনে শীতে কাজে বের হতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। সকাল থেকেই ঘন কুয়াশা এবং হালকা বৃষ্টির মতো আবহাওয়া বিরাজ করছে, যা সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত করছে।

স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। শীতের তীব্রতায় কৃষি কাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৃষকেরা জানান, কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রিকশাচালক আফজাল হোসেন বলেন, হিমেল বাতাসের সঙ্গে কনকনে শীতের কারণে রিকশা নিয়ে বের হওয়া খুবই কঠিন। এরপরও পেটের ভাত জোগান দিতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বের হলেও যাত্রীর অভাবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। স্বাভাবিক দিনে ১২টা পর্যন্ত অন্তত ২৫০-৩০০ টাকা আয় হলেও আজ হয়েছে মাত্র ৭০ টাকা। ঠান্ডার কারণে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না।

এদিকে ঠান্ডাজনিত রোগে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান জানান, অন্য সময়ের তুলনায় বর্তমানে সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, পাতলা পায়খানা, পেট ব্যথাসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। শিশু ও বৃদ্ধদের শীত থেকে রক্ষা করতে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, শীতের এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে জনজীবনের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।