ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শীতের দাপটে কাপছে দিনাজপুর

দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫, ১০:৫৭ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

দিনাজপুরে শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দিনাজপুরে চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ, ফলে শীতের অনুভূতি আরও বেশি কনকনে ছিল।

আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আজ পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্য জেলার তাপমাত্রা ছিল- রংপুর ১৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সৈয়দপুর ১৩.৬ ডিগ্রি, ডিমলা (নীলফামারী) ১২.০ ডিগ্রি, বগুড়া ১৪.৪ ডিগ্রি, ঈশ্বরদী (পাবনা) ১২.৫ ডিগ্রি, রাজশাহী ১২.২ ডিগ্রি, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) ১২.৮ ডিগ্রি, বদলগাছি (নওগাঁ) ১১.৯ ডিগ্রি, যশোর ১২.২ ডিগ্রি, চুয়াডাঙ্গা ১২.৭ ডিগ্রি, এবং শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) ১১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ভোর থেকে দিনাজপুরসহ আশপাশের এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা গেছে। সকালের দিকে ঠাণ্ডা বাতাস বইতে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষিশ্রমিক, রিকশা চালক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। ভোরবেলায় কাজে বের হতে না পারায় অনেকের দৈনিক আয় ব্যাহত হচ্ছে। শীতের কারণে শিশুরাও সহজেই ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দিনাজপুর জেলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে শুষ্ক ও ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি আরও বাড়ছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করলেও শীতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

তীব্র শীতের কারণে দিনাজপুরের গ্রাম ও শহরাঞ্চলে মানুষ গরম কাপড় ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে। শীতবস্ত্রের চাহিদা বাড়লেও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য তা এখনও অপ্রতুল। বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।

চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শিশু ও বয়স্করা শীত থেকে রক্ষা পেতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন। গরম কাপড় ব্যবহার, পর্যাপ্ত উষ্ণ খাবার গ্রহণ এবং ভোরের ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির প্রথম ভাগ পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। মাঝে মাঝে শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে দিনাজপুরে দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় শীতের প্রকোপ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাধারণ মানুষ এখন অপেক্ষায়, কবে একটু রোদে গা গরম করার সুযোগ মিলবে।