ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা ঈদগাহ মসজিদ সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন সাংবাদিকের ওপর সশস্ত্র হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাতের শামিল।
তারা অবিলম্বে হামলার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন দৈনিক ইনকিলাবের ভাঙ্গা প্রতিনিধি ওবায়দুল আলম সম্রাট। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের আঞ্চলিক সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক রাজশাহীর আলো পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক আজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মুন্সী। এছাড়াও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সাংবাদিক মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন।
আহত সাংবাদিক সাইফুল্লাহ শামীম অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানী কার্যক্রম চালানোর কারণেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। থানার ওসি মো. আব্দুল আলিম জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত রামিম মুন্সির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুরিয়া সদরদী এলাকার হেলিপ্যাড সংলগ্ন গাজীরভিটা মসজিদের সামনে দেশীয় অস্ত্রধারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন সাংবাদিক সাইফুল্লাহ শামীম। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন