ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে পরপর আঘাত হানা বিরল ও শক্তিশালী ‘সিসমিক ডাবলেট’ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি। ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলে জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভেনেজোলানা দে টেলিভিশন (ভিটিভি)-কে জানান, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আওতায় আমরা ৪,৩০০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তির চিকিৎসা দিয়েছি। দুঃখজনকভাবে, ২৩৫ জনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল অথবা ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা মারা যান।’
আলভারাদো জানান, নিহত ও গুরুতর আহতদের অধিকাংশই উপকূলীয় লা গুয়াইরা রাজ্যের বাসিন্দা। রাজধানী কারাকাসের প্রধান সমুদ্র ও আকাশপথের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যেই অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ব্যাপক কাঠামোগত ক্ষতির কারণে বিমানবন্দরটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে আহতদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকাজুড়ে অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণ একটি বিরল ‘সিসমিক ডাবলেট’। অর্থাৎ একই এলাকায় খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী টেকটোনিক ভূমিকম্প আঘাত হানে।
গত বুধবার বিকেলে সান ফেলিপের কাছে প্রথমে ৭.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ইউমারের দক্ষিণ-পূর্বে ৭.৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে।
জাতীয় সংসদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এই দুই ভূমিকম্পের পর থেকে অন্তত ১৩৮টি অনুকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভূমিকম্পে অন্তত ৩৪৬টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন এবং ২০টি শপিং সেন্টার, যার বেশিরভাগই লা গুয়াইরা রাজ্যে অবস্থিত। এছাড়া কাঠামোগত ক্ষতির কারণে আটটি আঞ্চলিক হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে রোগীদের দ্রুত অন্য চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করতে হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন