ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

জনবল সংকটে মুখ থুবড়ে সালথার পরিবার পরিকল্পনা সেবা

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকটে ধুঁকছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে সপ্তাহে মাত্র এক দিন সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও আবার আয়া ছাড়া অন্য কোনো কর্মী না থাকায় কেন্দ্রগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গট্টি, আটঘর, রামকান্তপুর, ভাওয়াল, মাঝারদিয়া, সোনাপুর, যদুনন্দী ও বল্লভদী ইউনিয়নে মোট ৯টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ের জনগণকে পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভকালীন সেবা, প্রসব-পরবর্তী পরামর্শ এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এসব সেবার মান ও পরিধি দুটিই কমে গেছে। কার্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমানে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার সংখ্যা রয়েছে মাত্র চারজন। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ফার্মাসিস্টের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরীর সাতটি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন। এ ছাড়া আয়ার দুটি পদও খালি রয়েছে।

রোববার (৭ জুন) বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, একজন পরিদর্শিকাকে একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিয়মিত সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গট্টি, ভাওয়াল, আটঘর, রামকান্তপুর, সোনাপুর, মাঝারদিয়া এবং বল্লভদী ও যদুনন্দী কেন্দ্র ভাগাভাগি করে পরিচালনা করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শিকারা। ফলে অনেক কেন্দ্রেই সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে সীমিত আকারে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

একাধিক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, রামকান্তপুর ইউনিয়নের সালমা বেগম বলেন, ‘ওষুধের জন্য আসি, কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।’ খারদিয়া এলাকার ইমরুল মাতুব্বর বলেন, ‘ক্লিনিকটা প্রায় ভূতের ঘরের মতো। সপ্তাহে এক দিন খোলে, তাও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না।’
প্রবীণ বাসিন্দা জইবুন নেসা বেগম বলেন, ‘কেন্দ্র কখন খোলে আর কখন বন্ধ থাকে, সেটাই বুঝতে পারি না। ওষুধ না পেলে আমরা কোথায় যাব?’

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুবিউল ইসলাম বলেন, ‘জনবল সংকটের পাশাপাশি ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ঘাটতিও রয়েছে। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগ প্রয়োজন। গত ডিসেম্বরের পর থেকে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ পাওয়া যায়নি।’

স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগ ও নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাবে। অন্যথায় পরিবার পরিকল্পনা ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।