ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

যশোরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ১১:৪২ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

যশোরে স্ত্রী ছামিনা আক্তারকে (২০) এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যার পর স্বামী সুজন হোসেন (২৬) আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। সোমবার (৮ জুন) ভোরে সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের শেখহাটি তমালতলায় এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত ছামিনা তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী সুজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ সুজনের বাবা-মাকে হেফাজতে নিয়েছে। 

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, নেশার টাকা না পেয়ে সুজন ও ছামিনার পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাদের কথাকাটাকাটি হয়। এ সময় সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ছামিনাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। পরে সেই ছুরি দিয়ে আঘাত করেন নিজের শরীরে।  চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন রক্তাক্ত স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক ছামিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক শাকিরুল ইসলাম জানান, ছামিনাকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। আহত সুজনের শরীরেও একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলমান। 

নিহত ছামিনার মামা সম্রাট হোসেন জানান, ৬ মাস আগে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার গয়হাটা ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে সুজনের সঙ্গে ছামিনার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তারা সম্পর্কে মামাতো ও ফুফাতো ভাই-বোন। বিয়ের আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সুজন স্ত্রীকে নিয়ে তরফ নওয়াপাড়ায় প্রবাসী মামা আল আমিনের বাড়িতে বসবাস করতেন। তার মা-বাবা আলাদা ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।

আরেক মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে ছিল। ৬ মাস আগে দেশে ফিরে ছামিনাকে বিয়ে করেন। তার ফের বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল। নেশার টাকা না পেয়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন।

তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই তামিম হোসেন জানান, নিহত ছামিনার স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সুজনের বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।   

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাসুম খান জানান, নেশার টাকা নিয়ে গোলোযোগে স্ত্রী ছামিনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর সুজন নামে একজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তিনি পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।