গাজীপুরের কালীগঞ্জে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে।
অপহরণের শিকার মো. হকসাব (২৪) কালীগঞ্জ উপজেলার মূলগাঁও এলাকায় অবস্থিত দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএলে কর্মরত। গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো কর্মস্থল থেকে ভাড়া বাসায় ফেরার পথে পৌরসভার মূলগাঁও এলাকায় কোম্পানির ৩ নম্বর গেটের সামনে পৌঁছালে তাকে অপহরণ করা হয়। পরে অপহরণকারীরা তাকে পাশের চৌকিদারবাড়ির পেছনের কাঠবাগানে নিয়ে যায়।
সেখানে অপহরণকারীরা হকসাবের কাছে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি সঙ্গে থাকা চার হাজার টাকা তাদের দিয়ে দেন। এরপর আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করলে অপহরণকারীদের নির্দেশে তিনি মোবাইল ফোনে স্ত্রী রিতাকে অপহরণের বিষয়টি জানান এবং বিকাশের মাধ্যমে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলেন।
বিষয়টি জানতে পেরে রিতা কালীগঞ্জ থানায় খবর দেন। পরে অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাত ২টার দিকে দেওপাড়া এলাকার সেভেন রিংস সিমেন্ট কোম্পানির ৫ নম্বর গেটসংলগ্ন সড়ক থেকে অপহরণকারী জাহিদ হাসান ওরফে তামিম (১৯) এবং সাগরকে (২৫) গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় অপহৃত হকসাবকে।
পরে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে আটক করা হয়।
তারা হলেন মূলগাঁও এলাকার মিঠু পাঠান (৪০), ঘোনাপাড়া এলাকার কনক মিয়া (২১), নাগরী ইউনিয়নের পানজোড়া এলাকার সানি মিয়া (২২) ও জাহিদুল (২৬)।
অপহরণের শিকার হকসাব নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদ রানা শামীম জানান, এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার মিঠু পাঠানের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি, অপহরণ, মাদকসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া কনক মিয়ার বিরুদ্ধেও ডাকাতি, চুরি ও অপহরণ মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন