গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কারাগারে বন্দী থাকা এক বাবাকে তার ১৪ বছর বয়সী ছেলের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। নিয়মের কঠোরতার মাঝেও এই মানবিক উদ্যোগে অসহায় বাবা সন্তানের শেষ বিদায়ে উপস্থিত হতে পেরেছেন।
জানা গেছে, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ দীর্ঘদিন ধরে বন্দী ছিলেন আনোয়ার পারভেজ। বুধবার (১১ মার্চ) আদালত থেকে তিনি জামিন পান। তবে কারাগারের নির্ধারিত মুক্তির সময় পার হওয়ায় তখনও তিনি কারাগারে অবস্থান করছিলেন।
এ সময় তাঁর কাছে পৌঁছে যায় হৃদয়বিদারক সংবাদ। তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে তামিম আর বেঁচে নেই। সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে বাবা ভেঙে পড়েন।
নিয়ম অনুযায়ী তখন তার মুক্তি অনিশ্চিত থাকলেও কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দেরি না করে তাৎক্ষণিকভাবে কারা মহাপরিদর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর রাত প্রায় ৯টার দিকে আনোয়ার পারভেজকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পর আনোয়ার পারভেজ দ্রুত ছুটে যান তার সন্তানের কাছে। শেষবারের মতো প্রিয় সন্তানকে দেখেন এবং অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানান।
পরে তিনি তামিমের জানাজায় অংশ নেন। দীর্ঘ সময় কারাগারে বন্দী থাকার পর এই মুহূর্তে বাবার শেষ বিদায় উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, এমন কঠিন সময়ে কারা কর্তৃপক্ষের মানবিক উদ্যোগ তাদের জন্য বড় সহমর্মিতা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তারা বন্দী বাবাকে সন্তানকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করানোর জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আনোয়ার পারভেজ গাজীপুর মেট্রোপলিটনের বাসন থানা এলাকার বসির সড়কের বাসিন্দা। তিনি মৃত মারুফ মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, আইন ও নিয়মের কঠোরতা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং মানুষের মাঝে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়ায়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন