ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

কম দামে জুতা, টঙ্গীতে জমজমাট চোরাই সিন্ডিকেটের অবৈধ বাজার

টঙ্গী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গী শিল্পাঞ্চল দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও শ্রমনির্ভর এলাকা। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার নিম্ন আয়ের মানুষ জীবিকার তাগিদে ছুটে বেড়ান। আর ঈদ সামনে এলেই তাদের জীবনে যুক্ত হয় বাড়তি চাপ পরিবারের জন্য নতুন পোশাক-জুতা কেনার চিন্তা। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করেই টঙ্গীতে গড়ে উঠেছে একটি অস্থায়ী চোরাই জুতার বাজার, যা এখন নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এক ধরনের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।

টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনের পাশেই বসে এই বাজার। প্রতিদিন বিকেল গড়াতেই সেখানে শুরু হয় বেচাকেনার ধুম। ফুটপাতজুড়ে সারি সারি জুতা, নামী-দামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লোগো লাগানো। দাম তুলনামূলক অনেক কম, যা দেখে সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছেন ক্রেতারা। যেখানে একটি ব্র্যান্ডের জুতা সাধারণ দোকানে দুই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে একই ধরনের জুতা এখানে মিলছে কয়েকশ টাকায়।

বিক্রেতাদের দাবি, তারা এসব জুতা ‘লোকাল সোর্স’ থেকে সংগ্রহ করেন। কেউ কেউ বলেন, গুলিস্তানসহ আশপাশের কিছু পাইকারি মার্কেট থেকে এসব জুতা আসে। তবে এসব দাবির সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাচ্ছেন না অনেক ক্রেতাই। তাদের অভিযোগ, রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি হওয়া জুতা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এখানে এনে বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয় এক ক্রেতা বলেন, আমরা কম দামে ভালো জুতা পাই, তাই এখানে আসি। কিন্তু ভেতরে ভেতরে জানি, এগুলো হয়তো সঠিকভাবে আসেনি। আবার আরেকজন জানান, অভাবের কারণে অনেক কিছু দেখেও না দেখার ভান করতে হয়।

এই বাজারের পেছনে সক্রিয় রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এমন অভিযোগও উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। চোরাই পণ্য সংগ্রহ, পরিবহন এবং খুচরা বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির বাইরে থেকেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই অবৈধ ব্যবসা।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, সরকারি জায়গায় যারা অবৈধভাবে ব্যবসা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ঈদের পর অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে চোরাই পণ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধুমাত্র অভিযান চালিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সীমিত থাকায় তারা স্বল্প দামের বিকল্প খোঁজেন। সেই সুযোগেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এ ধরনের অবৈধ বাজার। তাই একদিকে যেমন কঠোর নজরদারি প্রয়োজন, অন্যদিকে দরকার সাশ্রয়ী মূল্যে বৈধ পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।

টঙ্গীর মতো এলাকায় চোরাই জুতার এই বাজার শুধু টিকে থাকবে না, বরং সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত হয়ে উঠবে এমন আশঙ্কাই করছেন সচেতন মহল।