× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে ভিন্ন পদ্ধতিতে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। ছবি : সংগৃহীত

কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নীতিমালা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি)। বিদ্যমান নীতিমালা উপেক্ষা করে ভিন্ন পদ্ধতিতে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এক কর্মকর্তার পক্ষে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এতে বিবাদী করা হয়েছে ব্রি’র মহাপরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ ১৩ জনকে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রজনন বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহা. রফিকুল ইসলামের পক্ষে অ্যাড. কল্যাণ কুমার সাহা এই জাস্টিস ডিমান্ড নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে প্রচলিত বিষয়ভিত্তিক (ডিসিপ্লিন-বেজড) পদোন্নতি ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশ সূত্রে জানা যায়, ব্রিতে দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের পদোন্নতি দেওয়া হয়ে আসছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্যেষ্ঠতা, পেশাগত দক্ষতা এবং গবেষণাভিত্তিক বিশেষায়নের সমন্বয়ে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা কার্যক্রমও বিভাগভিত্তিক কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি ‘অ্যান্টিডেটেড সিনিয়রিটি’ বা পশ্চাদ-তারিখভিত্তিক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

কর্মকর্তাদের একটি অংশের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান গবেষণা কাঠামো ও জনবল ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে আইনজীবী কল্যাণ কুমার সাহার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত পদোন্নতি পদ্ধতি বিদ্যমান নীতিমালা ও নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যা বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) প্রণীত অনুযায়ী বিজ্ঞানীদের পদোন্নতি হতে হবে মেধা ও জ্যেষ্ঠতার সমন্বয়ে। তা অবশ্যই বিষয়ভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে। শুধু জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ নেই।

একইভাবে, ব্রি প্রবিধানমালা ২০১১ (সংশোধিত ২০১৯)-এও বিভাগ ভিত্তিক কাঠামোর মধ্যেই নিয়োগ ও পদোন্নতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। ফলে এই কাঠামো উপেক্ষা করে কোনো পদোন্নতি দেওয়া হলে তা নিয়মবহির্ভূত হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের দাবি, ব্রির প্রশাসনিক বাস্তবতায় পদ সৃষ্টি, দায়িত্ব বণ্টন এবং গবেষণা কার্যক্রম—সবকিছুই বিভাগভিত্তিকভাবে পরিচালিত হয়। ফলে পদোন্নতিও একই কাঠামো অনুসরণ করা যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয়। অন্যথায় গবেষণার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দক্ষ জনবল ব্যবস্থাপনায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।

অভিযোগ উঠেছে, ব্রির বর্তমান মহাপরিচালক অবসরে যাওয়ার কয়েক দিন (এলপিআর) আগে শেষ সময়ে একটি মহলের প্রভাবে এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার চেষ্টা চালাছে। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত তড়িঘড়ি করে নেওয়া হলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুশাসনের পরিপন্থি হবে। অন্যদিকে ব্রি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ৫৪ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রি'র এক কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কৃষি মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ পাওয়া সদ্য বিদায়ী কৃষি সচিব ও তার আস্থাভাজন এক উপ-সচিবসহ কয়েকজন কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে ব্রি'র সব অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে। সম্প্রতি একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুজন ভুয়া প্রার্থী শনাক্ত হওয়ায় নিয়োগে জালিয়াতির বিষটি সামনে আসে।

একটি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ৭৫টি পদে তড়িঘড়ি করে নিয়োগে ঐ চক্রটি বড় মাপের অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। ১০ গ্রেড হতে ২০ তম গ্রেডের আরও ৪৩ জনের নিয়োগে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। 

জানতে চাইলে ব্রির মহাপরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, এমনভাবে পদোন্নতি হয়েছে কি না বা হয় কি না, আমার জানা নেই। উনি আইনি নোটিশ করেছে ধারণার ওপর ভিত্তি করে।’

ব্রির উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রির মতো একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক পদোন্নতি ব্যবস্থা বহাল রাখা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক কৃষি গবেষণা এবং খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচকভাবে পড়তে পারে।

Link copied!