ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ব্যবসায়ীকে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ গাজীপুর ব্র্যাক ব্যাংকের বিরুদ্ধে

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ১২:৪৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ীতে ঋণের দুইটি কিস্তি বকেয়া থাকায় এক গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক ব্যাংকে তুলে এনে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ব্র্যাক ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানাধীন পারিজাত এলাকার বাসিন্দা ও গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ব্যবসায়ী সোহাগ মুন্সী, পিতা আব্দুল ওদুদ মুন্সী, কয়েক মাস আগে কোনাবাড়ী ব্র্যাক ব্যাংক শাখা থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী তাকে ২৪ মাসে ঋণ পরিশোধ করতে হবে এবং প্রতি মাসে আনুমানিক ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধের নিয়ম ছিল।

ব্যবসায়ী সোহাগ মুন্সীর পরিবার জানায়, ঋণ গ্রহণের পর তিনি নিয়মিত চারটি কিস্তি পরিশোধ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়িক মন্দা ও আর্থিক সংকটের কারণে টানা দুই মাসের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি।

এ অবস্থায় বুধবার (২০ মে) সকাল প্রায় ৯টার দিকে ব্র্যাক ব্যাংক কোনাবাড়ী শাখার কর্মকর্তা স্বাধীন কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সোহাগ মুন্সীর বাসায় যান। পরিবারের অভিযোগ, সেখান থেকে তাকে জোরপূর্বক ব্যাংকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দিনভর সেখানে আটকে রাখা হয়।

স্বজনদের দাবি, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা তাকে ব্যাংকের ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এসময় পরিবারের সদস্যরা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে সহজে বের হতে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্র্যাক ব্যাংক কোনাবাড়ী শাখার কর্মকর্তা স্বাধীন রাত পৌনে ৮টার দিকে মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, গ্রাহক সোহাগ মুন্সী স্বেচ্ছায় ব্যাংকে এসেছেন।

তবে সাংবাদিকের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, যদি তিনি স্বেচ্ছায় এসে থাকেন তাহলে দীর্ঘ সময় ধরে কেন তিনি ব্যাংকে অবস্থান করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

এদিকে রাত ৮টার দিকে সোহাগ মুন্সীর এক স্বজন ফোন করে জানান, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করার পরপরই ব্যাংক কর্মকর্তারা দ্রুত তাকে ছেড়ে দেন।

ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ঋণের কিস্তি বকেয়া থাকলে ব্যাংক আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে, তবে কোনো গ্রাহককে জোরপূর্বক তুলে এনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা মানবাধিকার ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সোহাগ মুন্সীর পরিবার। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।